সৌভাগ্য আর সৌভাগ্য। বরং তারচেয়ে উর্ধে কিছু থাকলে সেটা। এমন একটি প্রাপ্তি আমার ভাগ্যে এসে ধরা দিবে ভাবি নি। সকালবেলাও কল্পনা করি নি। মুহাম্মাদুল্লাহ এবং আমি কোন এক প্রয়োজনে গুলিস্তান এসেছিলাম। প্রয়োজন শেষে ফরিদাবাদে ফিরছিলাম। দেখলাম বায়তুল মোকাররমের দক্ষিণ গেইট থেকে শুরু করে মাওলানা ভাসানী স্টেডিয়ামের শেষ সীমা পর্যন্ত পুরোটা রাস্তা বন্ধ করা। পুলিশ এই রাস্তাটি বেরিকেট দিয়ে রেখেছে। ব্যাপারটা দেখে কৌতুহল বোধ করলাম। একজন পুলিশকে এমনভাবে রাস্তা বন্ধ করার কারণ জিজ্ঞাস করলাম। তিনি হেসে দিয়ে বললেন - জানো না কিছু? বললাম- না। বললেন: আরে, আজকে বাইতুল মোকাররমে মক্কা-মদীনার ইমামদ্বয়ের যে কোন একজন জুমা'র নামায পড়াবেন। এতে স্বাভাবিকভাবে মুসল্লিদের সংখ্যা বেশি হবে। তাই রাস্তা বন্ধ করে বাড়তি জায়গার ব্যবস্থা করা হলো।
বিষয়টি এবার স্পষ্ট হয়ে গেলো । গতকাল পত্রিকায় দেখেছিলাম - রাষ্ট্রীয় দাওয়াতে বায়তুল্লাহ এবং মসজিদে নববীর অসংখ্য ইমামদের থেকে দুইজন বাংলাদেশে এসেছেন। একজন হলেন - মসজিদে নববীর সিনিয়র ইমাম ড. আবদুল মুহসিন আল কাসিম। অপরজন - পবিত্র কা'বার সিনিয়র ইমাম ড. মুহাম্মদ বিন নাসের আল খুযাইম। তারা গতকাল সোহরাওয়ার্দি উদ্যানে ইসলামি ফাউন্ডেশনের অধীনস্থ দেশের সব ইমামদের সম্মুখে ভাষণদান করেছেন। আর আজ তারা বায়তুল মোকাররমে জুমা পড়াবেন। যে কোন একজন জুমাও পড়াবেন।
এমন একটি সুসংবাদ শোনে কি কোথাও যাওয়া যায় ! অন্য কোন দিকে না তাকিয়ে সোজা বায়তুল মোকাররমে চলে আসলাম। অজু করে জুমা'র জন্য অপেক্ষা করতে থাকলাম। জুমার আযান হলো। তার কিছুক্ষণ পর মসজিদে নববী ইমাম ড. আবদুল মুহসিন আল কাসিম বয়ান শুরু করেন। নবীজি (স.) এর প্রিয় মসজিদের ইমামের মুখে শোনা জুমা'র বয়ান। এর বিবরণ আর কিভাবে দেই। এই একটা কথাই তো যথেষ্ঠ।
জুমা'র দ্বিতীয় আযানের পর খুতবা পাঠ করেন। তারপর নামাযে দাঁড়ান। তেলাওয়াত শুরু করেন। আমি তখন বায়তুল মোকাররমের দক্ষিণ দিকের উত্তপ্ত মাঠে দাঁড়ানো। কিন্তু কিভাবে এই মাঠে দাঁড়িয়ে আছি বলতে পারবো না। অন্য সময় হলে দাঁড়ানোর কল্পনাও করতাম না। কিন্তু আজ আমি ভিন্ন মানুষ। কানে বাজছে ঐশীবাণীর সুমধুর সুর লহরি। মসজিদে নববী মহান ইমাম ড. আবদুল মুহসিন আল কাসিম দরদমাখা কণ্ঠে তিলাওয়াত করে যাচ্ছেন। আর আমরা এক ধরণের অপার্থিব স্বাদে ডুবে আছি । কি চমৎকার তেলাওয়াত ! হৃদয়াত্মা পুরোটা কেড়ে নিলো।
এই বয়সে কত জায়গায়, কত ইমামের পিছনেই তো জুমা পড়েছি ; কিন্তু 'মসজিদে নববী'র ইমামের পিছনে পড়া এই নামাযের মত এতো স্বাদ আর কখনও পাইনি । ভাবলাম - সরাসরি হারামাইন শরীফাইনের নামায না জানি কতটা রুহানি হয় ! হে আল্লাহ, আমাদেরকে তোমার ঘর এবং তোমার রাসূল (স.)এর রওযা যিয়ারতের তাওফিক দান করো। আমীন।
পবিত্র দু্ই নগরীতে কবে যেতে পারবো সেটা মহান মালিক আল্লাহ তা'য়ালাই জানেন। কিন্তু সৌভাগ্যের বিষয় হলো: পবিত্র নগরীদ্বয়ে না গিয়েও সে নগরীদ্বয়ের এক মহান ইমামের ইমামতিতে নামায আদায় করার সৌভাগ্য আমার হয়েছে। আবার সে নামাযটা জুমা'র নামায। এতো বড় সৌভাগ্যের কথা লিখে না রাখলে কি আর হয় ! হ্যাঁ, সে দিনটি ছিল ২০১৭ সালের এপ্রিল মাসের ৭ তারিখ। শুক্রবার।



No comments:
Post a Comment
Note: Only a member of this blog may post a comment.