Breaking

Friday, February 1, 2019

জলপ্রপাতের সন্ধানে [ ৪র্থ পর্ব ]

পরদিন ০২/১১/২০১৮ ইং শুক্রবার। সকালে প্রস্তুত হয়ে নাশতা করে নিলাম। তারপর একটি সিএনজি রিজার্ভ করে গুলিয়াখালি সমুদ্রসৈকতে আসলাম। গুলিয়াখালি সমুদ্রসৈকতটি সীতাকুণ্ড শহর থেকে পশ্চিমে মাত্র ৫ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত। এটি একটি ব্যতিক্রমধর্মী সমুদ্রসৈকত। পৃথিবীতে এমন সমুদ্রসৈকত আর আছে কিনা জানি না। তবে বাংলাদেশে দ্বিতীয়টা নেই। কক্সবাজার, সেন্টমার্টিন, কুয়াকাটা, পতেঙ্গা ইত্যাদির সমুদ্র সৈকতগুলো প্রায় এক ধাঁচের। কিন্তু এটি সম্পূর্ণ অন্য ধাঁচের। যার ফলে এটি নিয়ে খুব কৌতুহল কাজ করেছিল।

সিএনজি যেখানে নামিয়ে দেয়, সেখান থেকে ১০০ গজের মত পথ হাঁটা লাগে। এই হাঁটার পথটি বৃষ্টি হলে কর্দমাক্ত হয়ে যায়। আমরা মোটামুটি শুকনো পাই। যদিও কয়েকদিন আগে সারাদেশে ঝিরিঝিরি বৃষ্টি হয়েছিল।

৫ মিনিট হাঁটার পরই কাঙ্খিত সমুদ্রসৈকতের দেখা পাই। যে সমুদ্রসৈকতটির একদিকে দিগন্ত বিস্তৃত জলরাশি, অন্যদিকে কেওড়া বন। কেওড়া বনের মধ্য দিয়ে বয়ে গেছে একটি খাল। এই খালের চারদিকে কেওড়া বনের শ্বাসমূল লক্ষ করা যায়। তাছাড়া এই বনটি সমুদ্রের অনেকটা ভিতর পর্যন্ত চলে গেছে। যার ফলে এখানে একসাথে পাওয়া যায় জলাবন ও ম্যানগ্রোভ বনের মত পরিবেশ।

গুলিয়াখালি সমুদ্রসৈকতকে সবচেয়ে বেশি দৃষ্টিনন্দন করেছে সবুজ ঘাসের বিস্তৃত গালিচা। সাগরের পাশে সবুজ ঘাসের এই উন্মুক্ত প্রান্তর সত্যি চোখ জুড়িয়ে দেয়। বঙ্গোপসাগরের পাশে অবস্থিত এই মাঠটিতে প্রাকৃতিকভাবেই জেগে উঠেছে আঁকাবাঁকা অনেক নালা। যে সব নালা জোয়ারের সময় পানিতে ভরে উঠে। তখন চারপাশের সবুজ ঘাস আর তারই মাঝে ছোট ছোট নালায় ভর্তি পানি যে কাউকে মুগ্ধ করে। আমরাও মুগ্ধ হয়ে দেখলাম।

প্রায় এক ঘণ্টার মত সময় গুলিয়াখালি সমুদ্রসৈকতে কাটালাম। সময়গুলো বেশ কাটলো। হাঁটু সমান পানিতে নেমে, জল ছিঁটিয়ে নানান ভাবে মজা করলাম। তারপর ফিরতি পথে হাঁটা ধরলাম। সিএনজি নিয়ে আবারও সীতাকুণ্ডে ফিরে আসলাম।

একটু পর হোটেল ছেড়ে দেবো। তারপর চট্টগ্রাম শহরের উদ্দেশ্যে বের হবো। আজকে আবার শুক্রবার। সব মিলিয়ে সীতাকুণ্ডে আর বেশিক্ষণ থাকা হবে না। তাই রুম ছাড়ার আগে আমরা সবাই গোসল করে নেই। তারপর সকাল ১১ টার দিকে চট্টগ্রাম শহরের উদ্দেশ্যে বেরিয়ে যাই।

আমি একটা বিষয়ে আগ থেকে দ্বিমত ছিলাম। চট্টগ্রাম যাবার সময় আবারও দ্বিমত পোষণ করলাম। সেটা হলো বাঁশবাড়িয়া সী-বিচে যাওয়া। জায়গাটি আমার পছন্দ না। একটি চিকন লম্বা ব্রিজ আছে এখানে। জোয়ারের সময় সেটা দেখতে বেশ লাগে। কিন্তু আজকাল নাকি তাতে পর্যটকদের উঠতে দেয় না। সাগরের পানিতেও নামতে দেয় না। একটি কোম্পানি ওখানে তাদের কলকারখানা তৈরি করছে। একে কেন্দ্র করে তারা তাদের মত করে জায়গাটি সাজাচ্ছে। বর্তমানে পর্যটকদের জন্য আমার মতে তেমন কিছুই নেই। তাহলে কষ্ট করে শুধু শুধু গিয়ে কি লাভ ! নাহ, আবদুর রহমান নাছোড়বান্দা। সে যাবেই। তার মতে এটি বাদ দিয়ে লাভ কি ! ফলে চট্টগ্রাম শহরে যাবার আগে ওখানে গেলাম। ঝাউবন পেরিয়ে দূর থেকে সাগর দেখলাম। ব্রিজটির কাছে গিয়ে গার্ডে থাকা কর্মকর্তাকে উঠার সুযোগ দেয়ার জন্য অনুরোধ করলাম। সুযোগ দিলো না। ফলে ফেরার পথ ধরলাম। সিএনজিতে বসে আবদুর রহমান স্বীকার গেলো - সত্যি এখানে এসে তেমন লাভ হয় নি।

বাঁশবাড়িয়া সমুদ্রসৈকত দেখা শেষে মহাসড়কে ফিরে আসলাম। তারপর একটি বাসে আরোহন করে চট্টগ্রাম শহরের উদ্দেশ্যে ছুটলাম। আমরা চট্টগ্রাম শহরের ডবলমুরিং মডেল থানার দেওয়ানহাট নামক স্থানে জুমা'র সময় এসে বাস থেকে নামলাম। জুমার পর পর একটি সিএনজি রিজর্ভ করলাম। পতেঙ্গা যাবো।  দুপুরের খাবার ওখানে খাবো। সমুদ্রের মাছ দিয়ে মধ্যাহ্নভোজন হবে।

[ বাকী অংশ পরবর্তী পর্বে দেখুন  ]

No comments:

Post a Comment

Note: Only a member of this blog may post a comment.

Adbox