Breaking

Friday, November 30, 2018

নতুন অতিথির আগমন


ঘুম থেকে উঠে ক্লাসে বসলাম। চোখে এখনও ঘুমের ভাব। একটু একটু ঝিমুচ্ছিও। হঠাৎ বুকে কম্পন সৃষ্টি হলো। ভয় পেয়ে গেলাম। ভয়ে তন্দ্রাভাব চলে গেলো। আরে ধুর, মোবাইলের ভাইব্রেশনে এতো ভয় পেলাম কেন?!! আব্বু কল করেছে। রিসিভ করলাম। অপর পাশে উচ্ছ্বাস কণ্ঠস্বর। তোমার ভাগ্নে হয়েছে। তাই নাকি? কখন? এই তো একটু আগে। ভাগ্নে এখন কেমন আছে ? হুম, সে এবং তার মা পূর্ণ সুস্থ আছে। আলহামদুলিল্লাহ।
আমাদের বংশে নতুন প্রজন্মের আগমন। আহলান ওয়া সাহলান। অভিনন্দন। ওয়েলকাম। খোশ আমদেদ। চার ভাষায় মনে মনে তাকে স্বাগত জানালাম। ও হ্যাঁ, ভাগ্নের জন্ম ০৭/০১/২০১৮ ইং রবিবারের সকাল ৮ টা ৪৭ মিনিটে। হে আল্লাহ, তাকে তুমি দীর্ঘ হায়াত দান করো। তোমার পথে চলে, তোমার সন্তুষ্টি অর্জন করে, আমাদের জন্য তাকে জান্নাতের উসিলা বানাও। আমিন।
ইচ্ছা করছে এখনই গিয়ে ভাগ্নেকে কোলে নেই। সামর্থ্য সেই সুযোগ দিলো না। কয়েকদিন পরেই পরীক্ষা। প্রচুর চাপে আছি। একদিন অনুপস্থিতির মাশুর হাজিরা খাতা থেকে নাম কেটে যাওয়া পর্যন্ত গড়াতে পারে। এমন মুহূর্তে মাদরাসায় কেন যে এতো কড়া আইন জারি করলো - বুঝলাম না ! হঠাৎ আইন, হঠাৎ প্রয়োগ। কয়দিনে এই পর্যন্ত ৪০০ ছাত্রের মত নাম কাটা গেছে। যাহ, ইচ্ছাকে মাটি চাপা দিয়ে দিলাম। কিন্তু মন মানছিল না। ভাগ্নের কান্নাজড়িত কণ্ঠস্বরটি এখনও শোনতে পেলাম না। ফারহানাকে বলে দিলাম : যখনই কাঁদবে তখনই যেন কল দেয়। দূর থেকে নেটওয়ার্কের মাধ্যমে হলেও কান্নার আওয়াজটা শুনি। হাসতে তো আর পারবে না। পারলে হাসিটাই শুনতে চাইতাম। কান্না নয়।
০৮/০১/২০১৮ ইং সোমবার। দুপুর ২ টা ৫৮ মিনিট। ফারহানার কল এলো। রিসিভ করলাম। ওপাশ থেকে কচিকণ্ঠের কান্নার আওয়াজ ভেসে আসছে। হ্যাঁ, এই তো ভাগ্নে কাঁদছে। নিজ কানে শোনেছি। আওয়াজ শোনে দেখার আগ্রহ আরও বেড়ে গেলো। বাড়ি যেতে খুব ইচ্ছা করলো। আমি মানুষ হিসাবে সাহসি না। তাই ইচ্ছা করেও বাস্তবায়ন করতে পারি নি। ফলে সোস্যাল মিডিয়ার আশ্রয় নিতে হলো। সাঈদ ভাইকে ফেসবুকে ভাগ্নের ছবি পাঠাতে বললাম।
রাত ১০ টা বাজে। ফেসবুকে ঢু মারলাম। তিনজনের কাছ থেকে তিনটা এসএমএস এসেছে। একটি এসএসএম সাঈদ ভাইয়ের পক্ষ থেকে। সর্বপ্রথম সাঈদ ভাইয়ের পাঠানো ম্যাসেজ চেক করলাম। আটটা ছবি। তাতে একটি ঘুমন্ত গোলাপের অবয়ব। বেহেশতি গোলাপটির মুখে মুটকি হাসি লেগে আছে। মনটা উতালপাতাল করতে শুরু করলো। কবে নেবো কোলে? পরিক্ষাটাই বা এই সময় নিকটবর্তী কেন হলো?
প্রাণভরে অনেকক্ষণ ছবিগুলো দেখলাম। ভাগ্নের সুন্দর মুখখানা মনে গেঁথে নিলাম। ইনশাআল্লাহ অচিরেই কোলে নেবো। ভাগ্নে আমার পৃথিবীর সেরা ভাগ্নে হবে। হে আল্লাহ, তাকে তুমি তোমার বান্দা হিসাবে কবুল করো। আমিন।

No comments:

Post a Comment

Note: Only a member of this blog may post a comment.

Adbox