Breaking

Thursday, January 17, 2019

শহুরে বান্ধবী

এই শহরে আমার একটা 'বান্ধবী' আছে। আমার এই বান্ধবীটি একেবারে ব্যতিক্রম। সবাই বান্ধবীর আগমন ও দর্শনের জন্য সারাক্ষণ আগ্রহে থাকে। বান্ধবীর সান্নিধ্যে থাকা মূহর্তগুলো অন্য সময়ের চেয়ে প্রিয় মনে করে। অথচ আমি তার উল্টো। আমি আমার এই বান্ধবীর ভয়ে সারাক্ষণ তটস্থ থাকি। কখন না জানি তার সাথে সাক্ষাৎ হয়ে যায় ! তবু প্রতিনিয়ত তার সাক্ষাতে বাধ্য হই। সে যেন আমার নাগরিক জীবনের অবিচ্ছেদ্য অংশ।সময়ে অসময়ে আমি তার আগমনে বিরক্ত হই। সকাল, বিকেল, দুপুর, সন্ধা, রাত কোন সময়ের ভেদাভেদ নেই ; যে কোন মুহূর্তে তার আগমন ঘটতে পারে। আমি তার এই বেপরোয়া আচরণের বিপরীত কিছুই করতে পারি না। তার কাছে আমি প্রাণহীন পুতুলের মত। যখন যেভাবে মন চায় তখন সে আমাকে সেভাবে নিয়ে খেলা করে, মন না চাইলে তার হাত থেকে রক্ষা পাই।

বান্ধবীরা নাকি রসিক টাইপের হয়। সর্বদা বন্ধুকে মাতিয়ে রাখে। কষ্টের মূহর্তগুলোতে সান্ত্বনার পরশ বুলায়। অথচ আমার এই বান্ধবী সম্পূর্ণ ভিন্ন প্রকৃতির । তার সাক্ষাৎ মানেই কষ্টের সাথে আলিঙ্গন ; সুখের মুহূর্তগুলো দুঃখের সাগরে ভাসিয়ে দেওয়া। দুঃখের সময়ে কাটা 'ঘা'য়ে লবন ছিটিয়ে দেওয়া।

সেদিন শাহবাগে তার সাথে হঠাৎ সাক্ষাৎ হয়।আমি তখন তাড়াহুড়া করে মিরপুর যাচ্ছিলাম।আমার দূরসম্পর্কের এক ভাইয়ের বিয়েতে নিমন্ত্রিত হয়ে মূলত যাচ্ছিলাম । হঠাৎ বান্ধবীর ইমার্জেন্সি আগমন। সে আমাকে যাবার পথে বাঁধ সাধলো। তাকে দেখেই ভেতরটা মোচড় দিয়ে উঠলো। ভরদুপুরের ঝলমলে পরিবেশে আমার দেহ থেকে টপটপ বৃষ্টি ঝরতে লাগলো। আমার বেগতিক অবস্থা দেখে বান্ধবী মিটিমিটি হাসছিল। এমনিতে তার আগমনে আমি বিরক্ত ও পীড়িত। তার উপর বিদ্রুপের হাসি। আহ..

আমার করুণ অবস্থা দেখে পথের এক হকারের দয়া হলো। ঠাণ্ডা পানির একটা বোতল আমার দিকে এগিয়ে দিলো। অবশ্য তার বিনিময়ে ১৫ টাকা নিতে ভুল করলো না। ঠাণ্ডা পানি খেয়ে দেহের বৃষ্টি থামাতে চাইলাম। সম্ভব হলো না।বান্ধবী যে এখনও আমার সামনে দন্ডায়মান। বান্ধবীর উপস্থিতিই তো একপ্রকার ঘূর্ণিঝড়। আর এই তো সামান্য বৃষ্টি।

এক ঘন্টা পর বান্ধবী যাওয়ার অনুমতি দিলো। ভাবলাম- যাক, ভাইয়ের বিয়ে তাহলে খাওয়া হচ্ছে। ভেবেছিলাম হবে না। হায় হায়, আমার এই সুখ তার সহ্য হলো না। পিছন থেকে কখন যে আবারও সামনে এসে দাঁড়ালো টেরই পেলাম না। দেখে কলিজার পানি শুকিয়ে গেলো। সেদিন আমার আর ভাইয়ের বিয়ে খাওয়া হলো না। মন খারাপ করে বাসায় ফিরে এলাম।

আচ্ছা আপনাদের সাথে বান্ধবীর ব্যাপরে এতকিছু বললাম ; তার নামটা তো বলা হলো না ! নাম না বললে তাকে চিনবেন কিভাবে? তাহলে শোনেন। আমার সেই বান্ধবীর নাম: "জ্যাম"।শহরের পরিচিত শব্দ "জ্যাম"।

No comments:

Post a Comment

Note: Only a member of this blog may post a comment.

Adbox