বড় পরিতাপের বিষয় হলো - এমন ছোট্ট রাজ্যটিও স্বৈরশাসনে নিপীড়িত। ও হ্যাঁ, যে রাজ্যে রাজা দুইজন হয়, যেখানে শান্তি না থাকাই স্বাভাবিক। যার ফলে চশমা রাজ্যেও শান্তি নাই। এই রাজ্যের প্রতীকী শব্দ হলো - 'কানা সাম্রাজ্য'। মানবকুলে যত কানা আছে, তাদের প্রায় সবার মুখমণ্ডলেই এমন রাজত্ব গড়ে উঠে। আর অসুস্থ মানব চশমা রাজ্যের রাজত্ব মাটির মত সহ্য করতে থাকে। যার ফলে এখানের নিপীড়ন ব্যবস্থা বেশ উর্বর।
আজকাল আবার সুস্থ মানবকুলের মুখমণ্ডলেও চশমা রজত্বের গোড়াপত্তন ঘটতে দেখা যায়। নতুন এমন সাম্রাজ্যের ইতিহাস ঘাটতে গিয়ে থমকে যেতে হয়। প্রায় সবগুলো ইতিহাসের মূলকথা হলো - 'সুখে থাকলে ভূতে কিলায়'। আর তারা ভূতের এমন টন খানেক ওজনের কিল খেতে রাজি না। ফলে সুখ বিসর্জন দিয়ে আপন ভূমিতে স্বৈরশাসন ব্যবস্থা চশমা সাম্রাজ্যকে স্বাগত জানায়।
সে যাই হোক, চশমা রাজ্যের রাজা এখানে একচেটিয়া প্রভাবে জনগণকে নিষ্পেষিত করে। রাজা 'আয়না যুগল' তাদের সৈন্যবাহিনী 'নাক-প্যাড' এর মাধ্যমে সন্ন্যাসী নাক প্রজাকে কোণঠাসা করেই মূলত রাজত্ব করে। আর ঐদিকে সীমান্তের প্রহরায় থাকা 'দণ্ড যুগল' প্রজা 'কান যুগলের' সাথে নিয়মিত যুদ্ধ বাধিয়ে রাখে। এতে বরাবরের মত 'কান যুগল'ই ক্ষতিগ্রস্ত হয়।
মাঝখানে প্রজাদের আরেক যুগল রাষ্ট্রের সব সুবিধা ভোগ করে। স্বৈরশাসনের সব সুখ একমাত্র তাদের ভাগ্যেই জুটে। বিশেষ শ্রেণির এই প্রজা হলো 'চক্ষু যুগল'। চশমা রাজ্যের রাজা, সৈন্যবাহিনী, সীমান্ত - সবাই বিশেষ শ্রেণির এই প্রজাদের চাটুকারিতায় লিপ্ত থাকে। রাজা 'আয়না যুগল' সব সময় ভিআইপি পার্সন এই প্রজাদের মান রক্ষা করতে চায়। চক্ষু যুগলের মধ্যে সূচিত হওয়া দাম্পত্য কলহ নিরসনে সর্বদা সচেষ্ট থাকে। ফলে সৈন্যবাহিনী ও সীমান্তের মাধ্যমে মাজলুম জনতা 'নাক ও কান যুগলের' উপর নির্যাতন চালায়।
জুলুম নির্যাতনের জাঁতাকলে নিষ্পেষিত হয়ে 'নাক ও কান যুগল' প্রতিনিয়ত কুঁকড়ে উঠে। তারা মাজলুমি এই যিন্দেগী থেকে পরিত্রাণ পেতে চায়। কিন্তু ভাগ্য তাদের সঙ্গ দেয় না। বিশেষ শ্রেণির প্রজা 'চক্ষু যুগল' এর মাঝে যেদিন দাম্পত্যকলহ নিরসন হবে, সেদিন হয়তো চশমা রাজ্যের রাজা 'আয়না যুগল' নিপীড়িত প্রজাদের নির্যাতন পর্ব থেকে হাত গুটিয়ে নিবে। আর ক্ষমতার মসনদ ছেড়ে কালের গর্ভে হারিয়ে যাবে।
তাই এখন থেকে নিপীড়িত প্রজা 'কান যুগল এবং কান সন্ন্যাসীর' নিয়মিত প্রার্থনা করা উচিৎ। যাতে করে ভিআইপি পার্সন 'চক্ষু যুগল' এর মাঝে সূচিত হওয়া দাম্পত্যকলহ নিরসন হয়। আগের মত সুখের জীবন তাদের ভাগ্যে এসে ধরা দেয়। সেই সাথে 'কান যুগল ও কান সন্ন্যাসী' সুখময় জীবনের সন্ধান পায়।..
♦♦♦♦♦♦♦♦♦♦♦♦♦♦♦
রম্যরচনার অস্পষ্ট বিষয়গুলোর স্পষ্টতা:
১. যুগল শব্দ দ্বারা ২ টি হওয়া বুঝানো হয়েছে। যেমন - কান যুগল মানে দুই কান।
২. নাকের ক্ষেত্রে সন্ন্যাসী শব্দের ব্যবহার এটি ২ টি না হয়ে ১ টি হওয়াতে ব্যবহৃত হয়েছে।
৩. 'চক্ষু যুগলের মাঝে দাম্পত্যকলহ' দ্বারা অসুস্থ চোখ উদ্দেশ্য। যার কারণেই চশমা রাজ্যের গোড়াপত্তন।



No comments:
Post a Comment
Note: Only a member of this blog may post a comment.