বঙ্কে লাল। হিন্দু ব্রাহ্মণ পরিবারে বেড়ে উঠা একজন আদরের সন্তান। যিনি ১৯৪৩ সালে ভারতের উত্তর প্রদেশের আজমগড় জেলায় বিলার্যগঞ্জ গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। ছোটবেলা থেকেই বঙ্কে লাল তীক্ষ্ণমেধার অধিকারী ছিলেন।
বয়স তখন আঠারো। হঠাৎ করে তাঁর মাঝে ধর্ম বিষয়ে জানার জন্য প্রচুর আগ্রহ জাগলো। ধর্ম বিষয়ে তিনি নিজে নিজে গবেষণাও শুরু করে দিলেন। প্রচুর গবেষণার পর হিন্দু ধর্মের অসারতা তাঁর কাছে স্পষ্ট হয়ে উঠে। ইসলাম ধর্মের মহত্ত্ব তিনি মনেপ্রাণে অনুভব করেন। ফলে একটা সময় তিনি ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করে নিলেন।
তিনি এখানেই থেমে থাকেন নি। জ্ঞানের তৃষ্ণা নিবারণের জন্য মদীনার উদ্দেশ্যে ঘর ছাড়লেন। পবিত্র নগরী মদীনায় গিয়ে সেখানের বিখ্যাত মদীনা ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হলেন। এবং মদীনা ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় থেকে হাদীস শাস্ত্রে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন। তারপর জ্ঞানের মশাল আরও প্রজ্বলিত করতে মিশরের কায়রোতে অবস্থিত আল-আযহার বিশ্ববিদ্যালয়ে গমন করেন। পৃথিবী বিখ্যাত এই বিশ্ববিদ্যালয়ে তিনি হাদীস শাস্ত্রে পিএইচডি করেন।
তিনি মদীনা বিশ্ববিদ্যালয়েই অধ্যাপক হিসাবে যোগ দেন। তারপর ধীরে ধীরে তিনি হাদীস শাস্ত্রে আরও গভীর থেকে গভীর পাণ্ডিত্য অর্জন করতে থাকেন।
মদীনা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপনা থেকে অবসর নেওয়ার পর তিনি মসজিদে নববীতে হাদিসের দারস দেওয়ার দায়িত্ব পান। বর্তমানেও তিনি মসজিদে নববীতে হাদীসের দরস দেন। দ্বীনি মহলে যা অত্যন্ত সম্মানজনক।
হিন্দু ব্রাহ্মণ 'বঙ্কে লাল'ই আজকের "শায়খ জিয়াউর রহমান আজমী"। তিনি হাদীস বিষয়ে অনেকগুলো গ্রন্থ রচনা করেন। তারমধ্যে "আল-জামি আল-হাদিসিস সহিহস শামিল" অন্যতম। এই হাদীস গ্রন্থটি বিগত ১৪০০ বছরের ইতিহাসে একমাত্র হাদীস গ্রন্থ মনে করা হয়, যাতে বিপুল সংখ্যক সহিহ হাদীস স্থান পেয়েছে। কোন একটা হাদিসেরও যেখানে পুনরাবৃত্তি করা হয় নি। ১৬ হাজার হাদিস সংবলিত এই গ্রন্থটি রচনায় ১৫ বছর ব্যয় করেছেন শায়খ জিয়াউর রহমান আজমী। ২০ খণ্ডে রচিত এই হাদিস গ্রন্থটি বিনির্মাণে তিনি প্রায় ২০০ টি হাদীসের কিতাবের সহায়তা নিয়েছেন।
![]() |
| শুভ্র পোশাকে বসে খোশগল্প করছেন বঙ্কে লাল তথা বর্তমান শায়খ জিয়াউর রহমান আজমী |
বঙ্কে লাল থেকে জিয়াউর রহমান আজমী হওয়ার গল্প এবং ত্বদীয় সংক্রান্ত নানান অভিজ্ঞতার কথা নিয়ে তিনি "গঙ্গা টু জমজম" নামে একটি আত্ম-জীবনী গ্রন্থ রচনা করেন। বঙ্কে লাল থেকে বর্তমান শায়খ জিয়াউর রহমান আজমী হওয়ার পিছনে হাকিম আইয়ূব নামের একজন আলেমের অবদান রয়েছে। যার সহচর্যে তিনি ইসলামের সৌন্দর্য্য উপলব্ধি করতে সক্ষম হয়েছিলেন।




No comments:
Post a Comment
Note: Only a member of this blog may post a comment.