আজ ২৬শে মার্চ ২০১৭ ইং রবিবার। ইচ্ছা ছিল আজ স্বাধীনতা দিবস 'দিয়াবাড়ি' গিয়ে উদযাপন করবো। কিন্তু যাওয়া হলো না। মানুষ যেখানে অপরাধ করে শাস্তি পেতে যায়, আজ আমি সেখানে গেলাম । না না, অপরাধ করে যাই নি। দর্শনার্থী হিসাবে ঘুরতে গেছি। এই জায়গাটাকে সবাই "ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগার" নামে চেনে।
দুপুর বেলা হঠাৎ মনে হলো - গত দুই দিন আগে পত্রিকায় দেখেছি যে, স্বাধীনতা দিবসকে কেন্দ্র করে ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগার দর্শনার্থীদের জন্য উন্মুক্ত করে দিবে। যাদের ইচ্ছা ঘুরে আসতে পারবে। ভাবলাম এমন সুযোগ হাতছাড়া করা ঠিক হবে না। তাই আমরা পাঁচজন রওয়ানা হয়ে গেলাম। আমি, ইমাম, মাসুম, মিজান ও আবদুল মুমিন।
দুপুর ২ টার দিকে কারাগারের মূল ফটকে এসে রিকশা থেকে নামলাম। সিরিয়াল ধরে কারাগারের ভিতরে প্রবেশের টিকেট কাটলাম। টিকেটের দাম ১০০ টাকা করে নিলো। দর্শনার্থী হতে হলে ১০০ টাকা গুনতে হয়। অপরাধী হলে কোন টাকাই লাগে না । কি আজব ব্যাপার !
টিকেট কেটে আবারও সিরিয়াল ধরে ভিতরে প্রবেশ করলাম। ঢুকেই প্রথমে একটা মসজিদের ভাস্কর্য দেখলাম। খুব ভালো লাগলো। তারপর সামনে আগাতে লাগলাম। এই আরেক জগত। বন্দীদের সাথে তাদের আত্মীয়স্বজনদের দেখা করার স্থান, সাধারণ বন্দী সেল, বিদেশী বন্দি সেল, বাংলাদেশের মহান নেতাদের বন্দী সেল, ফাঁসির দণ্ড প্রাপ্ত বন্দী সেল, সাবেক ফাঁসির মঞ্চের স্থান এবং কারা জাদুঘর ইত্যাদি স্থানগুলো দেখলাম। কয়েকটা বন্দী সেলে ঢুকলামও ।
কারাগারের বন্দীসেলগুলোর অবস্থা কি আর বলবো ; এখানে অন্য শাস্তি না দিয়ে শুধু রেখে দিলেই মনে হয় বিরাট শান্তি হয়ে যাবে। খুবই নিম্নমানের অবস্থা এগুলোর। সুস্থ মানুষ অসুস্থ হতে বেশি সময় লাগবে না। ব্রিটিশ আমলে তৈরি এই কারাগার পরবর্তীতে আর সংস্কারের মুখ দেখেছে কিনা সন্ধেহ। তবে বন্দী সেলের সামনের আঙিনার পরিবেশগুলো আবার তুলনামূলক পার্ক সাদৃশ্য।
আমরা যখন কারাগার দেখতে গেছি, তার আগ থেকেই বন্দীদেরকে ঢাকার কেরাণীগঞ্জে তৈরি করা নতুন কেন্দ্রীয় কারাগারে স্থানান্তর করা হয়। এখন পুরনো এই কারাগারের সেলগুলো খালি পড়ে আছে । আমরা খালি সেল দেখে কারাগারের ভয়াবহতা বুঝতে চেষ্টা করলাম।
কারাগার থেকে বেরিয়ে ঐতিহাসিক "তারা মসজিদে" গেলাম। যে মসজিদটি সাধারণত আমরা আমাদের ১০০ টাকা নোটের পিঠে দেখে থাকি । "তারা মসজিদে" আসরের নামায পড়ে সদরঘাটের উদ্দেশ্যে ছুটলাম। সদরঘাট এসে "বাহাদুর শাহ পার্কে" একটি সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান চলতে দেখলাম। অনুষ্ঠানটি নিয়ে ততোটা আগ্রহবোধ করলাম না। কিন্তু হঠাৎ সেখান থেকে "কবিতা আবৃত্তির" আওয়াজ ভেসে আসতে শোনলাম । আর তাতেই থমকে দাঁড়ালাম । কয়েকটা আবৃত্তি শোনলাম । বলতে গেলে স্বাধীনতা দিবস 'দিয়াবাড়ি'তে উদযাপন না করে ভালোই হয়েছে। ফলে এতো এতো অভিজ্ঞতা অর্জনের সুযোগ আমরা পেয়েছি।



No comments:
Post a Comment
Note: Only a member of this blog may post a comment.