Breaking

Tuesday, December 4, 2018

সাত রঙের চা খেতে [ ১ম পর্ব ]



এটাকে কাকতালীয় বলা যায় ; আবার অনেকটা পরিকল্পিতও। উভয়টিরই নিজস্ব ব্যাখ্যা আছে। কাকতালীয় বলার কারণ - হুট করে সিদ্ধান্ত নেয়া আর তাতেই রওয়ানা হয়ে যাওয়া। আবার হুট করে ফেরত আসা এবং হুটহাট কিছু কর্মকাণ্ড ঘটা। এর মধ্যে আখলাকের ব্যাপারটিও রয়েছে। তাকে আমি বছরখানিক পূর্বে হাজার টাকা ধার দিয়েছিলাম। বিভিন্ন সমস্যার কারণে সে ঋণ পরিশোধ করতে পারছিল না। এমন হুটহাট মুহূর্তে সেও তার ঋণ পরিশোধ করে দিলো। ফলে ভ্রমণে টাকার সমস্যাও থাকলো না। তাছাড়া রাশেদের দাদার বাড়ির বিষয়টি তো আছেই। এবারের এই আনন্দভ্রমণের পিছনে বলতে গেলে রাশেদের দাদার বাড়িই প্রধান ভূমিকা পালন করেছে। যদিও শেষ পর্যন্ত আর যাওয়া হয় নি। সময় মত কথাপ্রসঙ্গে তার আলোচনা সামনে আসছে।

পরিকল্পিত বলার পিছনে যে কারণ ; তা হলো - অনেক আগ থেকেই সিলেট ভ্রমণের অদম্য ইচ্ছা মনে লালন করছিলাম। এর গাইড লাইন পেতে ইন্টারনেট ঘেঁটে অনেক তথ্য সংগ্রহ করেছি সেই কবে থেকে। ভিডিও ফুটেজ দেখেছি অগণিত। তো সে সব তথ্যের ভিত্তিতে নিজের অজান্তেই সিলেট ভ্রমণ নিয়ে একটা পরিকল্পনা অন্তরে সেট হয়ে যায়। শুধু সময় সুযোগের অপেক্ষায় থাকি। এখন সে মুহূর্তটিও চলে এলো।

মজার ব্যাপার হলো - একদিন ক্লাসের ফাঁকে ভ্রমণ বিষয়ে আলোচনা উঠে। আমি কথাপ্রসঙ্গে সিলেট ভ্রমণের ইচ্ছা ব্যক্ত করি। রাশেদ তা শোনে বললো - আরে, শ্রীমঙ্গলে তো আমার আপন দাদার বাড়ি আছে। চাচারাও সেখানে থাকেন। শুধুমাত্র আমার আব্বা চাঁদপুরে থেকে যান। তাও জন্মস্থান বলে। আমার দাদা চাঁদপুর থাকতে ইউনিয়ন চেয়ারম্যান ছিলেন। পরবর্তীতে শ্রীমঙ্গল গিয়ে বাড়ি করেন। আব্বাকেও সাথে চলে যেতে বলেছিলেন। তিনি যান নি। এখন তুই যদি আপত্তি না করিছ, আমিও তোর সাথে গেলাম। এক সাথে ঘুরলাম।  আট রঙের চা খেলাম। রাতে আমার দাদার বাড়িতে থাকলাম। প্রস্তাবটি বেশ মনে হলো। সে বৈঠকেই সিদ্ধান্ত নিলাম - আমরা কুরবানীর ছুটির পর পরই চা এর দেশে ঘুরে আসবো। আট রঙের চা খেয়ে কৌতুহল নিবারণ করবো।

ঈদের ছুটি শেষে ঢাকায় ফিরলাম। ঐ দিনই রাশেদের সাথে ট্যুরের ফাইনাল দিন তারিখ নিয়ে আলোচনায় বসলাম। আমার ইচ্ছা - আজকে কিংবা আগামীকালের ভিতর ট্যুর হয়ে গেলেই ভালো। এখন লেখাপড়ারও চাপ কম। রাশেদ "হ্যাঁ - না" কিছুই বললো না। বললো - তোমরা অন্য সঙ্গীরা মিলে তারিখ নির্ধারণ করো। আমি যে কোন সময় যেতে প্রস্তুত।

ঈদের পূর্বে কয়েকজন সহপাঠী সিলেট যাবে বলে আমাকে জানিয়েছিল। তাদের সবাইকে যাবার দিন তারিখ সম্পর্কে জিজ্ঞাস করলাম। ইতোপূর্বে আমার কক্সবাজার ট্যুরের সময় আশা প্রদানকারী কয়েকজন বন্ধু আমাকে যে উত্তর দিয়েছিলো ; এখন এদের কাছ থেকেও তেমন উত্তর পেলাম। তারা যাবে না। বিভিন্ন সমস্যার কথা শোনলাম। তবে রাগ করলাম না। মানুষের অবস্থা সব সময় এক থাকে না। তাছাড়া কক্সবাজার ভ্রমণের সময় উজরপেশকারি বন্ধুদের সাথে রাগারাগি করে পরবর্তীতে নিজেরই খারাপ লেগেছিল । ফলে এবার কন্ট্রোলে থাকি। শেষ পর্যন্ত তিনজনের ক্ষুদ্র একটি কাফেলা সিলেট ভ্রমণের জন্য প্রস্তুত হই। রাশেদ, উমর ফারুক আর আমি। এখন ট্রেনের টিকেট কাটার পালা।

আমরা আগ থেকেই সিদ্ধান্ত নিয়েছিলাম - আমাদের সিলেট ভ্রমণ হবে ট্রেন দিয়ে। ফলে এর বাস্তবায়নে ইন্টারনেট থেকে টিকেট কাটতে চেষ্টা করলাম। নিজেদের অজ্ঞতার কারণে সেটা আর সম্ভব হয়ে উঠে নি। বাধ্য হয়ে কমলাপুর রেলস্টেশনে যেতে হলো। আমি এবং রাশেদ ০৫/০৯/২০১৮ ইং বুধবার সন্ধার পর কমলাপুর রেলস্টেশনে আসলাম। টিকেট কাটার জন্য কাউন্টারের দিকে এগুলাম। কিন্তু কোন কিছুই বুঝে উঠতে পারছিলাম না। দু'জনেরই ট্রেনের টিকেট কাটার অভিজ্ঞতা এই প্রথম। অবশ্য টিকেট ছাড়া অনেক ভ্রমণ হয়েছে। দূরে ময়মনসিংহের গফরগাঁও পর্যন্ত গেছি ; আবার ঢাকায় ফিরেছি। তবে টিকেট কাটার অভিজ্ঞতার ঝুলি একেবারে খালি। স্টেশনে কর্মরত একজন পুলিশের সহায়তা চেয়েছিলাম। সেও জানে না। ডিউটি করা দরকার ; এই জন্য স্টেশনে দাঁড়িয়ে আছে। দুনিয়ার আর কোন খোঁজখবর না রাখলেও নাকি তার চলে। ফলে বাধ্য হয়ে নিজের মত করে চেষ্টা করলাম।

এখানে একটা কথা বলে রাখা প্রয়োজন মনে করছি। তা হলো - এই "কমলাপুর রেলস্টেশন" আমার কাছে অনেকটা বিমানবন্দরের মত মনে হয়। এর ব্যবস্থাপনাও বিমানবন্দর সাদৃশ্য লাগে। স্টেশনের মূল ফটক অংশটিতে বিমানবন্দরের মত স্কীন ঝুলানো আছে। বিমানবন্দরে যেমন এই দিনের বিমান উঠানামার সময়সূচী স্কীনে দেখায়, এখানেও দৈনন্দিন ট্রেনের আগমন প্রস্থানের সময়সূচী স্কীনে ভেসে আছে। কয়টা গেলো, কয়টা আসলো। আবার কখন যাবে, কখন আসবে ইত্যাদি। এই সময়সূচী স্কীনের পাশে একটি বড় বিলবোর্ড টাঙানো দেখতে পেলাম। এতে সপ্তাহব্যাপী ট্রেন সার্ভিসের পূর্ণ বিবরণ দেওয়া আছে । আমরা তা দেখা শুরু করি। দেখতে দেখতে একটা ট্রেন পছন্দ করি। নাম "উপবন এক্সপ্রেস"। সপ্তাহে বুধবার ছাড়া বাকী ছয়দিন কমলাপুর রেলস্টেশন থেকে রাত ৯ টা ৫০ মিনিটে সিলেটের উদ্দেশ্যে রওয়ানা দেয়। সিদ্ধান্ত নেই এটার মাধ্যমেই আমরা সিলেট যাবো।  এবার টিকেট সংগ্রহের পালা।

স্টেশনে দেখি ১৯/২০ টার মত টিকেট কাউন্টার। এর মধ্যে কোনটা থেকে সিলেটের টিকেট বিক্রি করে? আবার প্রতিটা কাউন্টার ঘুরে যে সে তথ্য নেবো, তারও কোন সুযোগ নেই। অনেক লম্বা সিরিয়াল ! সাহায্য পেতে তথ্যকেন্দ্রে গেলাম। কেন্দ্র থেকে আমাদেরকে ১ নং কাউন্টারে যেতে বললো। আমরা ১ নং কাউন্টারে সিরিয়াল ধরে ৩ টা টিকেট কাটলাম। আমরা চেয়েছিলাম পরদিন বৃহস্পতিবারে যেতে। কিন্তু সে দিনের টিকেট পেলাম না। বরং তার পরের দিন শুক্রবার রাত ৯ টা ৫০ মিনিটের "উপবন এক্সপ্রেস" ট্রেনে শোভন চেয়ার আসনের টিকেট পেলাম। শুরুতেই আমাদের প্ল্যানে গড়মিল হয়ে গেলো। এই গড়মিল আর ঠিক হলো না। পুরো সফর আমাদের পূর্ব পরিকল্পনার বিপরীত হয়েছে। যা কিছু ভেবে রেখেছিলাম, তার অনেকটার মাঝে পরিবর্তন আসে। ট্যুর প্ল্যানিং নতুন করে সাজাতে হয়। রাতে খাকা খাওয়ার কথা ছিল রাশেদের দাদার বাড়িতে। তাও সম্ভব হয় নি। মানে কেমন যেন নতুন আরেকটি ভ্রমণ হলো। যাকে একটু পূর্বে কাকতালীয় বলেছি। তারপরও অনেক মজা পেয়েছি। আট রঙের 'চা'ও খেয়েছি। টিকেট সংগ্রহ শেষে কমলাপুর থেকে হেঁটে হেঁটে গল্প করতে করতে ফরিদাবাদ আসলাম। এই আরেক গল্প।

পরদিন বিকেলের দিকে যাত্রাবাড়ি গেলাম। সিলেট ভ্রমণকে কেন্দ্র করে প্রয়োজনীয় পোশাকাদি কিনলাম। আরও কিছু টুকটাক কেনাকাটা করলাম। রাশেদও কিছু কিনলো। যাত্রাবাড়ি থেকে দু'জনে আবারও হেঁটে ফরিদাবাদ আসলাম। আসার পথে রাশেদ হেসে বলে - ভাই, দুইদিন হেঁটে তো ইতিহাস তৈরি করে ফেলেছি। এতো লম্বা হাঁটা এই প্রথম। শোনে আমি হেসে দেই। এটা তো সামান্য হাঁটা ! দীর্ঘ সফরে বের হচ্ছি। লম্বা হাঁটার ট্রেনিং হিসাবে একে গ্রহণ করতে পারো। আর হ্যাঁ, তোমার সাহস বৃদ্ধির জন্য একটা ইতিহাস বলি। ইতিহাসটা আমার হাঁটার। আমি এই শহরে দুইদিন দুইবার এক গতিতে টানা ২২ কিলোমিটার হেঁটেছি। কথাটা শোনে রাশেদ অবিশ্বাসের মাথা দোলালো। আমি তার বিস্ময় দূর করতে ব্যাপারটা স্পষ্ট করলাম। তুমি তো ঢাকা শহরের জ্যাম বা অন্যান্য অবস্থার কথা ভালো করেই জান। আমিও জানি। তাহলে বিস্মিত হচ্ছো কেন?! দুই দিনের হাঁটা দেখে বুঝ না - আমি কতটা হাঁটতে পারি।

০৭ই সেপ্টেম্বর ২০১৮ ইং শুক্রবার। সিলেট ভ্রমণের বার্তা নিয়ে যে দিনের আগমন ঘটে। দিন যত গড়ায় ততোই উত্তেজনা বাড়ে । আছরের পর তিনজনে প্রস্তুত হয়ে বের হয়ে যাই। মিলব্যারাক পুলিশ ফাঁড়ির সামনে অবস্থিত মসজিদে মাগরিবের নামায পড়ি। তারপর রিকশা নিয়ে সায়েদাবাদ বাসস্টেন্ডে চলে আসি। এখানে আমরা নৈশভোজ সেরে নেই। এরপর বাসে করে কমলাপুর রেলস্টেশন চলে আসি। স্টেশনের মসজিদে এশার নামায পড়ি। নামাযের পর স্টেশনের সামনে খোলা মাঠে বসে আড্ডা দেই। কারণ, এখনও রেল ছাড়তে দেড় ঘণ্টা বাকী।
রাত ৯ টার সময় রেলস্টেশনে ঢুকে পড়ি। ঢুকার সময় গেইটে তেমন চেকআপের সম্মুখীন হই নি। সাধারণত কমলাপুর রেলস্টেশনে ঢুকতে হলে টিকেট দেখানোসহ হালকা চেকআপ হয়। আজকে গেইটে কোন রক্ষী পাই নি। যাইহোক, স্টেশনের ভিতর ঢুকলাম। তথ্যকেন্দ্র থেকে সিলেটগামী ট্রেনের প্লাটফরম নাম্বার জেনে নিলাম।  জানলাম - ৭ নাম্বার প্লাটফর্ম থেকে সিলেটগামী ট্রেন ছাড়বে। কমলাপুর রেলস্টেশনে খুব সম্ভবত ৯/১০ টা প্লাটফরম আছে। একেকটা প্লাটফরম বিশাল। এজন্য প্লাটফরম নাম্বার জানাও জরুরি। নয়তো নিঃসন্ধেহে ট্রেন মিস।

আমরা প্লাটফর্ম নাম্বার জেনে স্টেশনের গাছগাছালি আচ্ছাদিত বিশ্রামাস্থানে গিয়ে বসে ট্রেনের জন্য অপেক্ষা করতে থাকলাম। ৯ টা ৩০ মিনিটের সময় আমি আমাদের ট্রেনের সন্ধানে ৭ নং প্লাটফরমে গেলাম। সামান্য ঘুরে এসে রাশেদ এবং উমর ফারুককে বললাম - ট্রেন ছাড়ার সময় নিকটবর্তী। চল, প্লাটফর্মে গিয়ে বসি।
প্লাটফরমে এসে নিশ্চিন্তে বসে আছি। ট্রেন এখনও আসে নি। বাংলাদেশের ট্রেনগুলোর সময়জ্ঞান বলতে কিছু নেই বলে মনে মনে গালাগাল করছি। এমন সময় পাশ থেকে আওয়াজ এলো - আরে, অনেকক্ষণ হলো সিলেটগামী "উপবন এক্সপ্রেস" এসে বসে আছে। যাত্রীদেরও প্রায় সবাই উঠে গেছে। অথচ তোরা এখনও এখানে কেন? আওয়াজ শোনে ঘোর কাটে। দেখি দশজনের একটি পর্যটকদলকে লক্ষ করে তাদেরই একজন কথাগুলো বলছে। আর তাতেই তারা হুড়মুড় করে ৬ নং প্লাটফর্মের দিকে ছুটতে লাগে। তারমানে তথ্যকেন্দ্র থেকে আমাদের মত তাদেরকেও ভুল তথ্য দেওয়া হয়েছে ! ট্রেন ৭ নং প্লাটফরমে নয়, ৬ নং প্লাটফরমে এসে অপেক্ষা করছে।

দৌড়ে আমরাও ট্রেনের কাছে আসলাম। উপবন এক্সপ্রস নিশ্চিত হয়ে ট্রেনে উঠলাম। আমাদের বগি নাম্বার "ঝ" এবং সিট নাম্বার ১৩, ১৪, ১৫ । বিশাল ট্রেন। তারমধ্যে মধ্যম বরাবর হলো আমাদের "ঝ" নাম্বার বগি। তাতে আরোহন করে সিট গ্রহণ করলাম। ঠিক ৯ টা ৫০ মিনিটের সময় ট্রেন ছেড়ে দিলো। সময় মত ট্রেন ছাড়তে এই প্রথম দেখলাম। ভালো। ট্রেনগুলো নিয়মিত সময়ের প্রতি লক্ষ রাখে সম্ভবত। তবে কখনও রক্ষা করতে দেখি নি। এই প্রথম দেখলাম। এটা আমার স্বল্প জ্ঞানের কথা। বাস্তবতা ভিন্নও হতে পারে।

কমলাপুর থেকে বিমানবন্দর রেলস্টেশন আসতে মাত্র ২৩ মিনিট লেগেছে। অথচ বাসে আসলে জ্যামের কারণে ২ ঘণ্টারও বেশি সময় লাগে। বিমানবন্দর রেলস্টেশনে ট্রেন পাঁচ মিনিটের মত বিরতি দেয়। তারপর আবারও ছেড়ে দেয়। টঙ্গী পার হয়ে একটা সময় ট্রেন গ্রাম্য অন্ধকারে হারিয়ে যায়। বনবাদাড়, পথঘাট, ফসলিক্ষেত, পাথুরেভূমি ও লোকালয়ের মাঝ দিয়ে ট্রেন স্বগর্বে চলতে থাকে। রাত ১১ টা ৫৫ মিনিটে ট্রেন একটি ব্রিজ অতিক্রম করে। নিচে নদী, উপরে রেলের ফাঁকা ব্রিজ। পার হওয়ার সময় অনেক ভয় লেগেছিল। মনে হচ্ছিল ট্রেন এখনই নদীতে পড়ে যাবে।

নদী পার হয়ে ট্রেন আবারও গাছগাছালির আড়ালে হারিয়ে যায়। এটি ছিল ডবল লেনের রেলপথ। তাই দেখতে অনেক সুন্দর লাগছিল। ট্রেনও খুব জোরে এগুতে থাকলো। জানালার পাশের সিটটা এতোক্ষণ যাবৎ রাশেদ দখল করে রেখেছিল। আমি তার পাশে ছিলাম। পুরো রাস্তায় দেখি সে মোবাইল টিপছে। আমি এটাকে সুবর্ণ সুযোগ মনে করি। আর পাঁচ মিনিটের কথা বলে তার সাথে সিট অদলবদল করি।

জানালার পাশে সিট পেয়ে বাইরে নজর ফেলি। ওয়াও ! রাতের পরিবেশে আমার দেশ এতো সুন্দর সাজ গ্রহণ করে ! মুগ্ধ নয়নে শুধু তাকিয়ে থাকি। একটা সময় ট্রেন "নরসিংদী জেলার রায়পুরা স্টেশনে" এসে থামে। ঘড়ির কাঁটা তখন রাত ১১ টা বেজে ২৩ মিনিটের ঘরে। এখানে পাঁচ মিনিট বিরতি দিয়ে ট্রেন আবারও ছেড়ে দেয়। হুম, সামনে আবারও নদী। তার উপর ব্রিজ। এটাও আমাদের পার হতে হবে। ট্রেন রাত ১১ টা ৩৩ মিনিটের সময় ব্রিজটি পার হয়। তার তিন মিনিট পরেই ১১ টা ৩৬ মিনিটের সময় "ভৈরব রেলস্টেশনে" এসে পৌঁছে। ভৈরব স্টেশনে পৌঁছার তিন মিনিট আগে ব্রিজের উপর থেকে নদীর উভয় তীরে শহরের মত দালানকোঠা দেখেছিলাম। দালানগুলোতে বৈদ্যুতিক বাতি জ্বলছিল। তখন মনে শহরটি নিয়ে কৌতুহল জাগ্রত হয়েছিল। শেষ পর্যন্ত স্টেশনে এসে "ভৈরব, কিশোরগঞ্জ" লেখা দেখা কৌতুহল নিবারণ হলো।

ভৈরবের কথা অনেক শুনেছি। বর্তমানে এটি কিশোরগঞ্জ জেলার একটি উপজেলা। তবে মর্যাদায় জেলা শহরের সমান। নিকট ভবিষ্যতে নাকি এটিও জেলা শহরের মর্যাদা পাবে।
ভৈরব শহর পার হওয়ার পর আবারও নদী পড়ে। বিশাল নদী। আগেরটার চেয়ে অনেক বড়। পরে জেনেছি এটি মেঘনা নদী। এই মেঘনা নদীর উপর ট্রেনের ডবল ব্রিজ। পাশে সড়কপথের যানবাহনের জন্য আরেকটি ব্রিজ। ট্রেনের ডবল ব্রিজটি ইস্পাতের তৈরি। ব্রিজের দুই পাশ এবং ছাদ ইস্পাত দিয়ে ডিজাইন করা। কাছ থেকে এবং দূর থেকে ব্রিজ দু'টি খুব সুন্দর দেখায়। শুধুমাত্র নিচে তাকালে ভয় লাগে। মাত্র দুইটা পাতের উপর দিয়ে ট্রেন চলছে। এর মাঝে ফাঁক ফাঁক করে একটা একটা ইস্পাত। কি এক ভয়ঙ্কর দৃশ্য। জানালা দিয়ে মুখ বের করে নিচের দিকে তাকিয়ে ভয়ে মুখ ফিরিয়ে আনি। নাহ, এতো বড় কলিজা এখনও আমার হয় নি।

মেঘনা ব্রিজ পার হয়ে ট্রেন অল্প সময়ের জন্য গতি কমিয়ে দেয়। তারপর আবারও দ্রুত চলতে থাকে। রাত ১১ টা ৫০ মিনিটের সময় আশুগঞ্জ রেলক্রসিং পার হয়।

♥ [ বাকী অংশ পরবর্তী পর্বে দেখুন ] ♥

No comments:

Post a Comment

Note: Only a member of this blog may post a comment.

Adbox