Breaking

Tuesday, December 4, 2018

সাত রঙের চা খেতে [ ৪র্থ পর্ব ]

চান্দের গাড়ি যাবার সময়ের সেই পুরনো কাঁচা সড়কে আবারও চলে আসে। এই কাঁচপথের বামপাশে এবার একটা বিশাল বাগান দেখতে পাই। বাগানের গাছগুলোও অনেক বড় বড়। প্রতিটি গাছে ছোট্ট ছোট্ট প্লাস্টিকের হাড়ি ঝুলে আছে। গাছ থেকে রস বেরিয়ে হাড়িগুলোতে পড়ছে। দেখতে অনেকটা খেজুর গাছ থেকে রস সংগ্রহের মত মনে হচ্ছে। আশ্চার্য হয়ে গাছগুলোর পরিচয় জিজ্ঞেস করলাম। জবাব এলো  - এগুলোই রাবার গাছ। এর কষ এভাবে সংগ্রহ করে মেশিনের মাধ্যমে রাবার বানানো হয়। গাছগুলোর কথা বিভিন্ন ম্যাগাজিনে পড়েছি। তাই বিস্ময়ের মাত্রা কমে গেলো। মনে হলো আগ থেকেই এগুলো চিনি। কয়েকঘণ্টা আগে মাধবপুর লেকে যাবার সময় এই বাগানের পাশ দিয়েই গিয়েছি। তবে বিষয়টি তেমন খেয়াল করি নি। এবার ফেরার পথে ভালোভাবে দৃষ্টিগোচর হয়েছে।

কাঁচা সড়ক ছেড়ে গাড়ি পাকা সড়কে চলে আসে। এখানে এসে রাস্তা দুই দিকে চলে গেছে। একদিক দিয়ে কয়েকঘণ্টা আগে এসেছি। আরেকদিক দিয়ে এখন আমরা যাবো। চান্দের গাড়ি সড়ক পথ দিয়ে চলতে থাকে। পিচঢালা পথের উভয় পাশের চা বাগানে "চা পাতা সংগ্রহকারী" মহিলাদের আপন কাজ করতে দেখি। একদম ছবিতে দেখা দৃশ্যের মত সুন্দর এই দৃশ্য। অনেক "চা পাতা সংগ্রহকারী চা কন্যা" তাদের পাতা সংগ্রহ শেষে দলবেঁধে বাড়ি ফিরছে। আমরা চান্দের গাড়ির ছাদের ফাঁক দিয়ে মুখ বের করে তা অবলোকন করছি। আমাদের এবারের গন্তব্য লাউয়াছড়া জাতীয় উদ্যান। তাই গাড়ি ঐদিকে ছুটে চলছে। মাঝে একটি বাজার পড়ে। বাজার পেরিয়ে কয়েক কিলোমিটার যাবার পর একটা স্থানে এসে গাইডম্যান হাতের ইশারায় একটি জায়গা দেখায়। জায়গাটির নাম "টেংরা ঝিল"। এখানে নাকি দশ বা বারো বছর আগে প্রাকৃতিক গ্যাসের সন্ধান পায়। পাইপ দিয়ে তা তোলারও ব্যবস্থা করা হয়। কিন্তু ঘটনাচক্রে এক রাতে পাইপ ফেটে যায়। আগুণ ধরে । ফলে অনেকদিন ব্যাপী আগুণ জ্বলে। ঐ যে বড় খাদ দেখা যাচ্ছে, যার মধ্যে এখন পানি জমে আছে ; ঐটাই সে স্থান। আগে এখানে এই খাদ ছিল না। ঘটনাটি ঘটার পর হয়েছে।

চান্দের গাড়ি এগিয়ে চলছে। সকাল সাড়ে ১১ টার দিকে "লাউয়াছড়া জাতীয় উদ্যান" এর সামনে এসে পার্কিং করে। আমরা উদ্যানের টিকেট কেটে ভিতরে প্রবেশ করি। এই উদ্যানটির খ্যাতি পুরো দেশে রয়েছে। হরেক প্রজাতির বড় বড় গাছ, বন্যপ্রাণী এবং প্রাকৃতিক সৌন্দর্যে ঘেরা এই উদ্যান। গেইট দিয়ে প্রবেশ করে প্রথমে যে বিষয়টি নজরে পড়ে, তা হলো - আকাশচুম্বী গাছের সারি। কত ধরণের গাছই তো দেখলাম - এমন গগণমুখী গাছ এই প্রথম। গাছগুলোর নাম ছোট্ট ছোট্ট বোর্ডে লিখে প্রতিটি গাছের মূল প্রকাণ্ডে ঝুলিয়ে রাখা আছে। এই মুহূর্তে একটা গাছের নামও আমার মনে নেই। আমার এই বয়সে এমন প্রকাণ্ড গাছ এবং এমন নাম আগে কখনও দেখি নি ও শুনি নি।

উদ্যানে এরকম গাছ দেখতে দেখতে অভ্যান্তরে ঢুকতে থাকি। কিছুটা পথ পাড়ি দেয়ার পর শ্রীমঙ্গল থেকে সিলেট যাওয়ার রেলপথ দেখতে পাই। রেলপথের দুই পাশে দুইটা প্যাটার্ন টাঙানো। একটাতে লেখা " ১৯৫৫ সালে এই লাউয়াছড়া বনের [ এরকম (→) তীর চিহ্ন দিয়ে ইশারা করা ] স্থানে হলিউডের বিখ্যাত মুভি "জুলভার্নের বিখ্যাত উপন্যাস অবলম্বনে করা 'অ্যারাউন্ড দ্য ওয়ার্ল্ড ইন এইটি ডেজ' ছবিটির একটি দৃশ্যের শুটিং হয়েছিল"। রেলপথের উপর পাশে আরেক প্যাটার্নে লেখা " হুমায়ূন আহমেদের 'আমার আছে জল' উপন্যাসের আলোকে তারই তত্ত্বাবধানে তৈরি সিনেমার কিছু শুটিং এই বনে কথা করা হয়েছে"। মূলত এই রেলপথটি ঘিরেই দুইটি বিখ্যাত মুভির শুটিং হয়েছে।

আসলেই রেলপথটি দেখার মত ; যার সৌন্দর্য অতুলনীয় । হ্যাঁ, ভালো কথা। এই দুইটা ছাড়াও তো এরকম দেশি বিদেশি অনেক সিনেমা ও নাটকের শুটিং এখানে করা হয়েছে এবং হচ্ছে। পৃথিবীর অনেক জায়গাও হয়। কিন্তু দেশের একটি জাতীয় উদ্যানে এই দুইটি সিনেমার শুটিং স্পটকে এভাবে হাইলাইট করার কি আছে?! আজব দেশের আশ্চার্য কর্মকাণ্ড।

এই রেলপথ ঘেঁষা একটি টিলায় কয়েকটি দোকান আছে। সাধারণত পর্যটনকেন্দ্রসমূহে প্রাপ্য ব্যতিক্রমধর্মী পণ্যসামগ্রী এখানে বিক্রি করা হয়। নিচ থেকে দেখলাম একটা দোকানের সামনে লেখা : "এখানে সাত রঙের চা পাওয়া যায়"। 'সাত রঙের চা' নামটা দেখেই উত্তেজনা বেড়ে যায়। স্থানীয় একজনকে কাছে পেয়ে প্রশ্ন করলাম - ভাই, এটাই কি সাত রঙের চা আবিষ্কারকের দোকান? লোকটি না বাচক উত্তর দেয়। এটি নকল। আসল দোকান শ্রীমঙ্গল বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) ক্যাম্পের পাশে অবস্থিত। আসল খেতে হলে ওখানে যেতে হবে। ভাবলাম : নকল খেয়ে লাভ কি ! তারচেয়ে বরং আসলের অপেক্ষায় আরও কিছু সময় থাকি। গাইডম্যান তো প্রতিশ্রুতি দিয়েছে - 'আট রঙের চা' এর উদ্ভাবকের দোকানে নিয়ে খাওয়াবে।

উদ্যানের রেলপথে কয়েকটা মুহূর্ত কাটিয়ে বনের আরও অভ্যন্তরীণে প্রবেশ করলাম। যারা কখনও পাহাড়ি বন দেখে নি, তাদের জন্য হয়তো এটি খুব ইন্টারেস্টিং জায়গা।কিন্তু আমার জন্য না। আমি আমাদের কুমিল্লার পাহাড় দেখে অভ্যস্ত। ঐ পাহাড় আর এই পাহাড় জাতি ভাইয়ের মত। তবে হ্যাঁ, এখানের আকাশচুম্বী গাছগুলো সত্যিই আমাকে প্রভাবান্বিত করে।

লাউয়াছড়া জাতীয় উদ্যানে প্রায় এক ঘণ্টার মত সময় কাটিয়ে বেরিয়ে আসার জন্য ফিরতি হাঁটা দিলাম। রেলপথ পেরিয়ে উদ্যানের প্রবেশপথের দিকে এগুতে লাগলাম। উদ্যানের অভ্যন্তরের মসজিদটি পেরিয়ে সামনে যাওয়ার সময় মনে হলো - উজু করে যোহরের নামায পড়ে নিলেই ভালো হয়। যে ভাবনা, সে কাজ। মুসাফিরের দুই রাকাত যোহরের নামায পড়ে সবেমাত্র বসেছি, এমনি মুষলধারে বৃষ্টি পড়া শুরু হয়ে গেলো। কি আর করার ! মসজিদের বারান্দায় বসে বৃষ্টি বন্ধের জন্য অপেক্ষা করতে থাকলাম। অপেক্ষার এই সময়টিতে চোখে রাজ্যের ঘুম এসে ভীড় করলো। ৩০ ঘণ্টারও বেশি সময়  (প্রায় দেড় দিন) হলো - এর মধ্যে আমি এক ফোঁটা ঘুমাই নি। ফলে বৃষ্টির এই সময়টিতে খুব সহজে তন্দ্রা চলে আসে। কিন্তু কপাল খারাপ হলে যা হয় আর কি ; চার মিনিট বৃষ্টি পড়ে আবার থেমে যায়। সফরসঙ্গী বাকী সাতজন গাড়ীতে ফেরার জন্য তাগাদা দিতে শুরু করে। অগত্য গাড়ীতে ফিরে এলাম। গাড়ী শ্রীমঙ্গল শহরের উদ্দেশ্যে চলতে থাকে।

শহরে এসে সকালের সেই "পাঁচ ভাই রেস্টুরেন্টে" প্রবেশ করলাম। দুপুরের আহার এখানে সেরে নিলাম। তারপর আবারও চান্দের গাড়িতে উঠলাম। পুনরায় যাত্রা শুরু। প্রথম গন্তব্য বিজিবি ক্যাম্পের পাশে অবস্থিত আসল "আট রঙের চা" প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠান। আমরা শ্রীমঙ্গল শহরের আরেকটি প্রান্তে এসে আমাদের কাঙ্খিত "আট রঙের চা" প্রস্তুতকারী দোকানটি পেলাম। খুব সুন্দর একটি পরিবেশে গড়ে তুলেছে এই দোকানটি। দোকানের সামনে মাঠ। তাতে গাছগাছালি দিয়ে সজ্জিত করা আঙ্গিনা। সিমেন্ট দিয়ে তৈরি করা বড় বড় ছাতা। এর নিচে চেয়ার টেবিল পাতানো। দোকানের ভিতরও মোটামুটি পরিপাটি। এর দেয়ালের পুরোটা জুড়ে বিভিন্ন পত্রিকার কাইটিং লাগানো। নানান সময় বিশ্বের নানান পত্রিকায় এই 'আট রঙের চা' নিয়ে যে সব রিপোর্ট এসেছে - সব এখানে সংগৃহীত। প্রাচ্য, মধ্যপ্রাচ্য, পশ্চাত্য - পুরো বিশ্বের বড় বড় ব্যক্তিত্ব কবে কোথায় এই চা খেয়েছে ; তার সংক্ষিপ্ত বিবরণ এবং ছবি রয়েছে এসবের মাঝে। আমাদের বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাও নাকি ২০১২ সালের ডিসেম্বর মাসের ১ তারিখে এই দোকানে এসে আট রঙের চা খেয়েছেন। খুব বড় অক্ষরে দোকানে তার দিন তারিখসহ লেখা আছে। এতো সব বিবরণ দেখে মনে হলো - চা অর্ধেক খাওয়া হয়ে গেছে। দোকানের এক পাশে এখানে প্রস্তুতকৃত নানার চা এর বিবরণ এবং এগুলোর মূল্য তালিকা লাগানো আছে। আট রঙের চা, সাত রঙের চা, ছয় রঙের চা, পাঁচ রঙের চা, চার রঙের চা, তিন রঙের চা, দুই রঙের চা, হাই স্পেশাল দুধ চা, স্পেশাল লেবু চা, স্পেশাল দুধ চা, গ্রীন চা, আদা চা, লাল চা, লেবু চা, সাদা চা ইত্যাদি ইত্যাদি।

আমরা তিনজনে মিলে একটি "আট রঙের চা" এবং তিনটি লেবুর চা এর অর্ডার দিলাম। ড্যাফোডিল ইউনিভার্সিটির পাঁচজনে একটি "সাত রঙের চা" এবং পাঁচটি লেবুর চা এর অর্ডার দেয়। এই চা ভেতরের রুমে বানানো হয়। পর্যটকদের সে রুমে প্রবেশ নিষেধ। অনুমতি থাকলে ভিতরে গিয়ে বানানোর প্রক্রিয়াটি দেখতাম। তাহলে কিছুটা হলেও রপ্ত করতে পারতাম। তারা এই জন্যই বোধ হয় গোপনে সে চা বানায়। এই হরেক রঙের চা তৈরির মূল উদ্ভাবক ময়মনসিংহ জেলার রামেশ রাম গৌড়। তিনি শ্রীমঙ্গলে এটি আবিষ্কার করেন। এবং এর মাধ্যমে পুরো বিশ্বে প্রশংসা কুড়িয়েছেন। তার থেকে এই প্রক্রিয়া শিখে শ্রীমঙ্গলে বর্তমানে আরও অনেক প্রতিষ্ঠান হয়ে গেছে। তাই এর প্রভাব কিছুটা কমে গেছে। তবে আর যাইহোক, আসল তো আসলই। নকল বের হলেও এখন পর্যন্ত তার মর্যাদা সবার উপরে রয়েছে। প্রায় সবাই আসলটাই খেতে চায়। দোকানের সন্ধান না পেয়ে হয়তো নকল খায়।

চা প্রস্তুত হয়ে চলে এলো। এখন সামনে টেবিলের উপর "আট রঙের চা" রাখা। তাকিয়ে আছি। এটা কিভাবে সম্ভব?! এক রঙের সাথে আরেক রং লাগে না, মিশে না। হালকা নাড়া দিলেও যেই সেই। চায়ের কাপে চুমুক দিলাম। রাশেদ এবং উমর ফারুকও চুমুক দিলো। কাপও খালি হয়ে গেলো। খাওয়ার পর মনে হলো - দিল্লি কা লাড্ডু - জো খায়েগাঁ, উহ পস্তায়েগাঁ। জো না খায়েগাঁ, উহ ভি পস্তায়েগাঁ। বিষয়টা অনেক এমনই। না খেলে মনে হবে - কি যেন খেলাম না ! খেলে মনে হবে - কি খেলাম এটা ! স্বাদের প্রকৃত বিষয়টি আমি ব্যাখ্যা করতে পারবো না। তবে আমার কাছে মনে হয়েছে শরবত খেয়েছি। মানুষ শরবত ঠাণ্ডা খায় ; এটি গরম। উভয়টিই মিষ্টি। তবে "আট রঙের চা" একটু হালকা মিষ্টি। এছাড়া চা এর যে ফ্লেভার থাকার কথা - তার কিঞ্চিত পেয়েছি। তবে হ্যাঁ, আট রঙের এই চা বাহ্যিকভাবে দেখতে খুবই দৃষ্টিনন্দন। তাকিয়ে থাকতে ইচ্ছা করে। একে নিয়ে গবেষণা করতে ভালো লাগে।

আট রঙের চা খেয়ে লেবুর চা পান করলাম। তারপর চায়ের বিল পরিশোধ করে আবারও চান্দের গাড়িতে ফিরে এলাম। ও হ্যাঁ, 'আট রঙের চা' এর দাম কিন্তু এখানে ৮৫ টাকা। অন্যান্য স্থানে ৮০ টাকা। এই রঙিন চায়ের আইটেমগুলোর দাম এর রং হিসাবে ধরা হয়। প্রতি রং ১০ টাকা করে। যেমন - পাঁচ রঙের চা ৫০ টাকা। তিন রঙের চা ৩০ টাকা। এরকমভাবে যত রং পারা যায়। এছাড়া লেবু চা, আদা চা, লাল চা, সাদা চা, গ্রীন চা, স্পেশাল দুধ চা ১০ টাকা করে। স্পেশাল লেবু চা ২০ টাকা এবং হাই স্পেশাল দুধ চা ৪০ টাকা করে।

চান্দের গাড়ি ছেড়ে দিলো। আমাদেরকে নিয়ে বিজিবি ক্যাম্পের অন্য পাশে চলে এলো। এই পাশেও সেই রঙিন চা পাওয়া যায়। আমরা একটু আগে তা টেস্ট করে এসেছি। তাই আর নতুন করে করলাম না। এখানের চা এর স্টল পেরিয়ে নিচের দিকে যাওয়া একটি সিঁড়ি আছে। তা দিয়ে আমরা নিচের ভূমিতে নামলাম। সামনে একটি খাল। খালের উভয় পাশ পার্ক সাদৃশ সাজানো। আর এই খালের উপর পার্বত্য চট্টগ্রামের রাঙামাটিস্থ ঝুলন্ত ব্রিজ আদলে স্টীল দিয়ে তৈরি একটি ব্রিজ বানানো। দেখতে সুন্দরই লাগে। ব্রিজের ওপাশে একটি স্মৃতিসৌধ বানানো। ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধে নিহত হওয়া বাংলাদেশি সৈন্যদের স্মরণে তৈরি এটি। একে "মুক্তিযুদ্ধ বধ্যভূমি" নামে নামকরণ করা হয়েছে। আমরা ব্রিজ পেরিয়ে ওপাশে গিয়ে কিছু সময় কাটালাম। তারপর আবারও গাড়িতে ফিরে এলাম।

♥ [ বাকী অংশ পরবর্তী পর্বে দেখুন ] ♥

No comments:

Post a Comment

Note: Only a member of this blog may post a comment.

Adbox