হুম। বিয়ে নামক অধ্যায়টি সত্যি খুব গুরুত্বপূর্ণ। এই অধ্যায়টির সাথে জীবন, মরণ, পরিবার, সমাজ, রাষ্ট্র, পৃথিবী - সব কিছু ওতপ্রোতভাবে জড়িত। এখানে একটু সমস্যা দেখা দিলে তার প্রভাব সবার উপর গিয়ে পড়ে। আর এই কারণেই দাম্পত্যজীবনে পা রাখতে যাওয়া প্রতিটি মানবসন্তানের উচিৎ এই অধ্যায়টি ভালোভাবে জানা। জানার ব্যাপারে একটুও হেয়ালিপনা না করা। বাস্তবতা বুঝে নিজের ভবিষ্যৎ করণীয় নির্ধারণ করা।
বিয়ের ক্ষেত্রে ছেলে-মেয়েদের অনেক অভিজ্ঞতার মুখোমুখি হতে হয়। তার মধ্যে মেয়েদের একটু বেশিই অদ্ভুত অভিজ্ঞতার মুখোমুখি হতে হয়। যেমন - জন্ম পর থেকে তারা বেড়ে উঠে এক পরিবেশে, একটি অভিন্ন রুচি নিয়ে। তারপর মাঝ বয়সে এসে হঠাৎ করে ঐ জীবনটা ব্রেক নেয়। পূর্ব রুচিতে পরিবর্তন আনতে হয়। ভিন্ন আরেকটি পরিবেশে অন্যধারার আরেকটি রুচির সাথে খাপ খেয়ে বাকীটা জীবন কাটাতে হয়। এতে চাপা একটা কষ্ট তাদের মনে থেকে যায়। তবে নতুন জীবনে প্রবেশের আনন্দে তা সাময়িক ভাটা পড়ে থাকে।
মেয়েদের জীবনের সাথে সম্পৃক্ত আরও একটি কঠিন সত্য হলো - যে ঘরে বাবার আদুরে মেয়েটি সবার চোখের মধ্যমণি হয়ে ছিল, পরিবারের অন্যতম সদস্য হিসাবে ছোট থেকে বড় হয়েছিল , ঐ ঘরেই একটা সময় সে মেহমান হয়ে আসে। হ্যাঁ, এই সব কিছুই বিবাহের কারণে ঘটে। এটাই নিয়ম। মানব সমাজ এভাবেই চলে। এর বিরোধিতা করলে জনজীবন অচল হয়ে পড়বে। কিন্তু যে কথাগুলো এখন বলতে ইচ্ছা করছে, তা হলো - বিবাহ কিন্তু নারীপুরুষ উভয়ের জন্যই জরুরি। তারপরও দেখুন এই ক্ষেত্রে কার কোরবানি সবচেয়ে বেশি?! নিশ্চই নারীর। উপরে যে দুইটি কঠিন বাস্তবতার কথা বলেছি, একজন পুরুষ কখনও তার মুখোমুখি হয় না। ফলে তারা এর মর্ম বুঝে না। অধিকাংশ জন বুঝতেও চেষ্টা করে না। আমিও একজন পুরুষ। আমার জীবনেও এমন দিন আসবে না। তারপরও তাদের বিষয়টা আমাকে অনেক ভাবায়। হয়ত ভাবুক মানুষ বলে এমনটা হয়। তার থেকেই আজকে এই বিষয় নিয়ে লেখা।
বৈবাহিক জীবন নারী পুরুষের পরস্পরা নানান বিষয়ের সমন্বয়ে হয়ে থাকে। এই ক্ষেত্রে প্রত্যেকে প্রত্যেকের অবস্থানে থেকে করণীয়গুলো মেনে চলতে হয়। সংসারে পুরুষের যেমন অবদান থাকে, নারীরও ঠিক তেমন অনেক অবদান থাকে। এই বিষয়টা বুঝলে এবং একে অপরের প্রতি পূর্ণ আস্থা ও বিশ্বাস রাখলে আর সেই বিশ্বাস রক্ষার জন্য যা করণীয় তা করলে - তবেই সংসার সুখের হয়। কিছু ঘটনা দেখে এবং অনেক ঘটনা শুনে মনে হচ্ছে - সমাজে এই বিষয়গুলোর বড় অভাব রয়েছে। বিশেষ করে নারীদের ভুল তেমন সহ্য করা হয় না। কিন্তু কেন? ভুল তো পুরুষও করে। পুরুষেরটা কেন তেমন দোষের হয় না?!
একজন পুরুষ যদি পূর্বে বলে আসা নারীদের সাথে ঘটিত ঐ দুইটি কঠিন সত্যকে মনে রাখে এবং এর বাস্তবতা ভালোভাবে উপলব্ধি করে, তাহলে বোধ হয় তার কাছে নারীর ভুল ভুলই মনে হত না। বরং খুব যত্নের সাথে ভুলগুলো শুধরে দিতো। কারণ, তার সঙ্গ দিতে গিয়েই নারী এমন কিছু কোরবানি করেছে এবং করছে , যা পুরুষ করে নি। করা সম্ভব হত বলেও মনে হয় না। তবু যদি নারী অবহেলিত হয়, তাহলে তার জীবনে প্রাপ্তির খাতায় কিইবা আর থাকলো ! তবে সে যদি এমন কোন অপরাধ করে - যা সত্যিই শাস্তিযোগ্য ; তাহলে সেটা অন্য হিসাব। এই ক্ষেত্রে পুরুষও বরাবর। আজকের এই লেখাটা নারীদের পক্ষে বেশি পক্ষপাতিত্ব করছে বলে অভিযোগ করতে পারেন। তবু এই পক্ষপাতদুষ্ট লেখাই আজ লিখবো। আমার থেকে এই পক্ষপাতিত্ব স্বভাব এখন দূর হবে না। হয়ত আজীবন থেকে যাবে।
ও হ্যাঁ, এতক্ষণ নারীর পক্ষপাতিত্ব করেছি বলে এটা না যে, তারা স্বামীর প্রতি অবহেলা করবে। বরং আদর্শ স্ত্রী হয়ে যা যা করা দরকার সেটা করে যাবে। স্বামীর প্রয়োজন, তার সমস্যা, তার মেজাজ-চাহিদা ইত্যাদি সব কিছু বুঝতে চেষ্টা করবে। যে কোন আচরণ প্রকাশ করার আগে ফলাফল নিয়ে চিন্তা-ভাবনা করবে। যেমন - স্বামী কর্মক্ষেত্র থেকে ফেরার পর তার কাছে কোন ধরণের অভিযোগ-অনুযোগ করার আগে একটু বিরতি দিয়ে করবে, যাতে সে শান্ত হয়ে তা গ্রহণ করার মত অবস্থায় ফিরে আসে। তাৎক্ষণিক শুরু করলে হিতে-বিপরীত হওয়ার সম্ভাবনাই বেশি। এরকমভাবে সব ক্ষেত্রে মানসিক অবস্থা বুঝে স্বামীর সাথে আচরণ করা।
.
আদর্শ দাম্পত্যজীবনের বহু ঘটনা বইয়ের পাতায় পাতায় খুঁজে পাবেন। তার কিছুটা নাটক সিনেমায়ও দেখা যায়। সুখী দাম্পত্যজীবন কিভাবে গড়তে হয়, এই সম্পর্কিত অনেক কৌশল ঐগুলোতে পাওয়া যায়।
![]() |
দাম্পত্যজীবন সুখী করার বিষয়ে স্বতন্ত্র অনেক বই রয়েছে। ঐগুলো ফলো করা যেতে পারে। আবার পরিস্থিতির আলোকে অনেক কিছু নিজের থেকে আবিষ্কার করে প্রয়োগ করতে হয়। সর্বোপরি নববী আদর্শে দাম্পত্যজীবন সাজাতে পারলে তবেই জীবন সুখের হয়। নবীজির দাম্পত্যজীবন, স্ত্রীদের সাথে নবীজির আচরণ, নবীজির প্রতি নবীপত্নীদের ভালোবাসার বহিঃপ্রকাশ ধরণ ইত্যাদি বিষয়গুলো অনুসরণ-অনুকরণ করলে আপনা আপনি সুখের মুখ দেখতে পাবেন।
দাম্পত্যজীবনে খুনসুটি না থাকলে প্রাণহীন দেহের মত অবস্থা হবে। সংসার হয়ত টিকে থাকবে ; কিন্তু মানবের মাঝে বৈবাহিক জীবন যে সব উদ্দেশ্যকে সামনে রেখে গঠিত হয়, তাতে অনেকটা ঘাটতি থেকে যাবে । খুনসুটি করার জন্য কিন্তু বাড়তি প্রেসার নেয়া লাগে না। মানসিকতা থাকলেই চলে। চলুন খুনসুটি বিষয়ে নববী আদর্শ থেকে একটা ঘটনা শুনে আসি।
আমাদের মা, মুসলিম উম্মাহর মা, হযরত আয়েশা (রা.)এর সাথে নবীজি (স.)এর বিয়ে হয়েছে বেশি দিন হয় নি। আয়েশা (রা.) তখন সদ্য কিশোরী। নবীজি কিশোরী আয়েশার মনোরঞ্জনের জন্য দৌড় প্রতিযোগিতার আয়োজন করলেন। দু'জনে মিলে চুক্তিবদ্ধ হয়ে বাড়ির আঙ্গিনায় দৌড় শুরুও করে দিলেন। আয়েশা (রা.) সে প্রতিযোগিতায় জিতে গেলেন। এতে কিশোরী আয়েশা খুব আনন্দিত হলেন। নবীজিকে হারাতে পেরে এটা নিয়ে বেশ মজাও নিলেন।
তার কয়েক বছর পরের ঘটনা। নবীজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আয়েশা (রা.)এর সাথে আবারও দৌড় প্রতিযোগিতা দিলেন। কিন্তু এবার নবীজি জিতে গেলেন। আয়েশা রাদিয়াল্লাহু আনহা হেরে গেলেন। নবীজি এই ব্যাপারটা নিয়ে খুব মজা করলেন। আয়েশা (রা.)কে হেসে হেসে বললেন - আয়েশা, আমি কিন্তু এবার আগের প্রতিযোগিতাটির শোধ নিয়ে নিলাম। আয়েশা (রা.)ও কথাটা মজার সাথে নিলেন। তিনি জানতেন - এবার তিনি হারবেন। কারণ, তখন তিনি হালকা গড়নের ছোট্ট কিশোরী ছিলেন। ফলে দৌড়ে গতিময়তা ছিল। এবার তিনি নারীঘটিত স্বাস্থ্যবর্ধনের কারণে সেই অবস্থানে নেই। ফলে হেরে যান। নবীজি জিতে যান। তারপরও স্বামী-স্ত্রীর স্বাভাবিক খুনসুটি থেকে প্রতিযোগিতাটি দিয়েছেন।
হ্যাঁ, দাম্পত্যজীবনে খুনসুটি থাকতে হয়। সুখী দম্পতি হতে হলে বিষয়টা গুরুত্ব বুঝতে হবে। এতে সম্পর্কে মাধুর্যতা বাড়ে। পরস্পরের প্রতি ভালোবাসা বৃদ্ধি পায়। জীবন হয় স্বর্গীয় সুখে ভরপুর।
♥♥♥♥♥♥♥♥♥♥♥♥♥♥♥♥
ভাবনাগুলো তখন বিক্ষিপ্ত ও অগোছালো ছিল। ফলে অনেক কথা বলা হলো না। আবার অনেক কিছু বলেও ফেলেছি।
এই রচনাটির পিছনে রয়েছে একটি বিয়ের প্রেক্ষাপট। বিয়েটি আমার এক ফুফাতো বোনের। বোনটির নাম তামান্না। হঠাৎ করেই তার বিয়েটি হয়েছিল। তাছাড়া ঐ একই সপ্তাহে আমি চার-চারটি বিয়ে খেয়েছিলাম। আমার আরেক মামাতো বোন "মুনিবা" - তারও হঠাৎ বিয়ে হয়েছিল ঐ একই সপ্তাহে। (আল্লাহ তা'য়ালা সব দম্পতিদের সুখে রাখুক। দাম্পত্য সমস্যায় থাকলে তা নিরসন করে দিক। ভবিষ্যৎ জীবন সহজ দিক। আমিন।)
পরিচিত আপনজনদের বিয়ের কথা যখনই শুনি, তখনই ভাবনাগুলো জাগ্রত হয়। নিভৃতে কিছু কথা বলতে ইচ্ছা করে। কিন্তু সুযোগ হয় না। সেদিনও হয় নি। তাই কথাগুলো বলার জন্য কাউকে না পেয়ে লিখতে বসেছিলাম। লেখাটি বেশ বিক্ষিপ্ত ও অগোছালো হয়েছে জানি। তবু লিখে রেখেছি। কারও কাজে না লাগলেও যেন অন্তত আমার কাজে লাগে।
হঠাৎ বিয়ে হয়ে যাওয়া বিষয়টা অনেক ভাবনার। পূর্ব প্রস্তুতি নেওয়ার তেমন সুযোগ হয় না। যার বিরূপ প্রভাব নবদম্পতির মাঝে পড়াটা অস্বাভাবিক কিছু না। বিয়ের ক্ষেত্রে ক্ষুৎ থেকে যাওয়ার চেয়ে নিক্ষুৎ হওয়াই অনেক ফায়দাজনক। এতে দাম্পত্যজীবন সুখের ছোঁয়া পায়।




No comments:
Post a Comment
Note: Only a member of this blog may post a comment.