প্রথমে বাংলাদেশ প্রসঙ্গে বলি। আমরা সবাই জানি - সাবেক পাকিস্তান ভেঙেই আজকের পৃথক বাংলাদেশের উদ্ভব হয়েছে। ১৯৪৭ সালে পাকিস্তান প্রতিষ্ঠিত না হলে আজকের স্বাধীন বাংলাদেশ আমরা পেতাম না - এটা স্বাভাবিকভাবেই ধরে নেওয়া যেতে পারে। সাবেক পাকিস্তানের দুই অংশের মধ্যে ১৭০০ কিলোমিটার ভৌগোলিক ব্যবধান ছিল। আরও ছিল মানবধারা, ভাষা ও কিছুটা ইতিহাসের ব্যবধান। এই সব মিলিয়ে নিয়ে বিচার করতে হয় আজকের পৃথক বাংলাদেশের জন্মকথাকে। আজকের বাংলাদেশ ও সাবেক পাকিস্তান উভয়টির জন্ম হওয়ার পিছনে সংগ্রামী সাধকদের তালিকা করলে দেখা যায় প্রায় সবটাই মুসলমানদের অবদান। হাতেগোণা কয়েকজন হিন্দুর অবদানও আছে তা আমি অস্বীকার করবো না। তবে অধিকাংশ হিন্দু স্বাধীন বাংলাদেশের চেয়ে ভারতীয় জাতীয়তাবাদে বিশ্বাসী ছিল। তারা স্বাধীন বাংলাদেশকে বাদ দিয়ে ভারতীয় জাতীয়তাবাদকে প্রাধান্য দিয়েছে। ফলে হিন্দু সম্প্রদায়ের বড় অংশটা ভারতের সাথে থেকে যায়। বাঙালি হিসাবে বাংলাদেশের সাথে সংযুক্ত হয় নি। বাংলাভাষী মুসলমানগণই সংগ্রাম করে পৃথক রাষ্ট্র গঠন করে। রবীন্দ্রনাথের গান বাংলাভাষী সবার ভালো লাগে। কিন্তু এই গান বাংলাভাষী সব মানুষকে নিয়ে আসতে পারে নি কেবলমাত্র একটি রাষ্ট্রের পতাকা তলে। তিনি ভারতের হিন্দু সভ্যতার জয়গান করেছেন। ফিরে যেতে চেয়েছেন বৈদিক সমাজ জীবনে। কিন্তু তিনি পৃথক বাংলাভাষী মানুষের জন্য পৃথক রাষ্ট্র গড়বার কোন প্রস্তাব রাখেন নি তার কোন লেখায়, গানে কিংবা কবিতায়। পৃথক বাংলাদেশের পিছনে কাজ করে নি রবীন্দ্র দর্শন। কাজ করেছে মুসলিম নজরুল দর্শন। কারাবরণ করেছেন আমাদের জাতীয় কবি। এভাবে পৃথক বাংলাদেশের মূলে কাজ করেছে মুসলমানদের একটা পৃথক ইতিহাস ধারা। যে ধারাকে অস্বীকার করে আজকের বাংলাদেশের জন্ম-পরিচয় বোঝা সম্ভব হতে পারে না।
তাছাড়া আমরা এটাও জানি যে - আমাদের বাংলাদেশে যখন উচ্চশিক্ষার জন্য ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার প্রস্তাব রাখা হয়, তখন ঐ হিন্দু সম্প্রদায়ই এর পুরো বিরোধিতা করে। যার নেতৃত্বে কবিগুরু রবীন্দ্রনাথও ছিলেন। তারা এই অঞ্চলের মানুষ উচ্চশিক্ষিত হোক সেটা কখনও চায় নি। চেয়েছেন আহসান মঞ্জিলের নবাব স্যার সলিমুল্লাহর মত মুসলিম নেতাগণ। যারা নিজস্ব সম্পত্তি দান করে প্রতিষ্ঠা করতে সাহায্য করেন দেশের সর্বোচ্চ বিদ্যাপীঠ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়।
এরকমভাবে উপমহাদেশের স্বাধীনতা অর্জনের জন্য সবচেয়ে বেশি রক্ত ঝরিয়েছে মুসলমান। হিন্দুরা ইংরেজদের সাথে মিশে তাদের সংস্কৃতি গ্রহণ করেছে অকপটে। কিন্তু মুসলমান এমনটা করে নি। তারা সব সময় ইংরেজদের বিরোধিতা করেছে। ১৭৫৭ সালে পলাশীর যুদ্ধে নবাব সিরাজুদ্দৌলা পরাজয়ের মাধ্যমে ইংরেজগণ উপমহাদেশের ক্ষমতা হাতিয়ে দেওয়া শুরু করে। ১৭৯৯ সালে মহীশুরের স্বাধীনতাকামী সম্রাট সুলতান ফতেহ আলী টিপুকে মালভেলীর ময়দানে শাহাদাৎ বরণ করানোর মাধ্যমে ইংরেজগণ দ্রুত পুরো উপমহাদেশ দখল করে নেয়। দিল্লির মোঘল সম্রাটও তখন কোণঠাসা হয়ে পড়েন। এবং ক্ষমতা ছেড়ে দিতে বাধ্য হন। তারপর থেকে ইংরেজগণ উপমহাদেশে চালাতে থাকে জুলুম অত্যাচার। রাজত্ব করে ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি।
দেশের এমন নাযুক মুহূর্তে স্বাধীনতার স্বপক্ষে সর্বপ্রথম আওয়াজ তোলেন শাহ আবদুল আযীয় মুহাদ্দিস দেহলভী। তিনি উপমহাদেশকে দারুল হরব ঘোষণা দিয়ে স্বাধীনতা যুদ্ধের প্রতি দেশবাসীকে আহবান করেন। তার এই ঘোষণা শোনে স্বাধীনতার জন্য নতুন জোয়ার উঠে। সর্বপ্রথম মুসলমানেরাই স্বাধীনতার যুদ্ধে নামে। শিখ সম্প্রদায় তখন অনেকটা বাঁধা হয়ে দাঁড়ায়। সব প্রতিকূলতা ঠেলে মুসলমানেরা আন্দোলন চালিয়ে যেতে থাকে। সাইয়েদ আহমাদ শহীদ, ইসমাঈল শহীদদের মত নেতাদের নেতৃত্বে মুক্তির সংগ্রাম শুরু হয়। স্বাধীনতাকামী এই সূর্যসন্তানগণ বালাকোটের ময়দানে রক্ত দিয়ে জাতিকে স্বাধীনতার পথ দেখিয়ে যান।
স্বাধীনতা আন্দোলনের এই সারিতে আমরা আরও দেখি - ১৮১৮ সাল থেকে শুরু হওয়া হাজী শরীয়তুল্লাহর ফরায়েজি আন্দোলন। ১৮৪০ থেকে দুদু মিয়ার স্বাধীনতা সংগ্রাম ও কারাবরণ। ইতিহাসে আরও পাই শহীদ তীতুমীরের বাঁশের কেল্লার জীবনকথন। ১৮৩১ সালে যিনি জীবন দিয়েছেন কাঙ্ক্ষিত স্বাধীনতার তরে। ১৮৫৭ সালের সিপাহি বিদ্রোহের কথা স্মরণ হলে আজও কেঁদে উঠি। যা ব্যর্থ হওয়ায় অধিকাংশ দোষী সাব্যস্ত হয় মুসলমান। কারণ, ইংরেজ জাতি জানতো - তাদের শাসনব্যবস্থার জন্য একমাত্র পথের কাঁটা মুসলিম জাতি। তাই মুসলিম জাতির উপর দিয়েই তখন বড় ঝড়টা বয়ে যায়। অর্ধ লক্ষ আলেমকে তখন হত্যা করা হয়। এছাড়া সাধারণ অন্যান্য মুসলিম তো আছেই।
বাংলাদেশ গড়া পর্যন্ত স্বাধীনতা সংগ্রামে সংগ্রাম করা সংগ্রামীদের তালিকায় আরও দেখি নবাব আবদুল লতিফ, নবাব স্যার সলিমুল্লাহ, শেরে বাংলা একে ফজলুল হক, হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী, মাওলানা আবদুল হামিদ থান ভাসানী, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান, মেজর জিয়াউর রহমানের মত নেতাদের। যারা সবাই মুসলমান। বড় বড় সব আন্দোলন মুসলমানদের নেতৃত্বেই হয়েছে। তাই বলে কয়েকজন হিন্দু নেতাদের অবদান অস্বীকার করছি না। তারাও ইংরেজ বিতারণে কিছুটা ভূমিকা রেখেছে। তবে পৃথক বাংলাদেশের জন্য না। যার কারণে অধিকাংশ হিন্দু ভারতে সংযুক্ত থাকে। বাংলাদেশে যুক্ত হয় নি। বলবেন - পশ্চিম পাকিস্তানও তো আমাদের স্বাধীনতা খর্ব করেছে। তার উত্তরে বলবো : হ্যাঁ করেছে। তবে আমাদের এটাও জানা দরকার - উপমহাদেশ ভাগ হওয়ার সময় আমরা নিজেরাই তাদের সঙ্গ দিয়েছি। তারপর পৃথক বাংলাদেশ গড়তে আমরা মুসলমানেরাই ভূমিকা রেখেছি। পাকিস্তানি শাসকদের অত্যাচারের বিরুদ্ধে সর্বপ্রথম আওয়াজ তুলেন মাওলানা আবদুল হামিদ খান ভাসানি। তিনি ১৯৫৭ সালে "কাগামারী সম্মেলনে" সর্বপ্রথম পৃথক বাংলাদেশের প্রস্তাব রাখেন। তারপর বঙ্গবন্ধু নেতৃত্বে এসে সেই আন্দোলন বেগমান করেন।
এখানে একটি কথা না বললে ইতিহাসের চরম একটি সত্যের প্রতি অবিচার করা হবে। সেটা হলো - ভারতীয় হিন্দুরা আমাদের স্বাধীনতা যুদ্ধে সাহায্য করেছে আমরা খুব কৃতজ্ঞতার সাথে স্মরণ করি। কিন্তু তারা আমাদের সাথে যে অন্যায় আচরণ করেছে তা কিভাবে ভুলি ! স্বাধীনতার পর তারা আমাদের দেশের সম্পদ যেভাবে লুণ্ঠন করে নিয়েছে, পাকিস্তানিরা ২৪ বছরেও সম্ভবত এক সাথে এত সম্পদ লুণ্ঠন করে নি। স্বাধীনতা যুদ্ধের সংগ্রামী সৈনিক মাওলানা ভাসানী বলেন - স্বাধীনতা যুদ্ধের পর ভারতীয় সৈন্যরা ভারত যাওয়ার সময় আমাদের দেশ থেকে তৎকালীন প্রায় ১২০ টাকা মূল্যের অস্ত্র হাতিয়ে নিয়ে যায়। এই হলো অস্ত্রের বিবরণ। অন্যান্য সম্পদ যে কি পরিমাণ নিয়ে গেছে তার হিসাব কষতেও হয়রান হয়ে যেতে হয়।
কথাগুলো এই কারণে বলছি - আজকের বাংলাদেশ এক ধরণের গোলক ধাঁধাঁয় নিপাতিত হয়ে আছে। কথায় কথায় হিন্দু সংস্কৃতি বাংলাদেশিদের উপর চাপানোর পাঁয়তারা চলছে। বলা হচ্ছে - এটা রবীন্দ্র দর্শন, অমুক দর্শন, তমুক দর্শন। আরে যে দর্শন বাংলাদেশ স্বাধীনতার পিছনে ভূমিকা রাখা তো দূরের কথা "টু" শব্দ পর্যন্ত করে নি, সেটা বাংলাদেশের সংস্কৃতি হয় কিভাবে কিভাবে?! দূর্গাপূজা আসলে খুব ঘটা করে বলা হয় এটা বাঙালি জাতির সংস্কৃতির ভিত্তি। দূর্গাপূজা হিন্দুদের সবচেয়ে বড় পূজা। মুসলমানদের সাথে তার আদৌ কোন সম্পর্ক নেই। আজ বিশেষ পরিকল্পনা নিয়ে আমাদের ইতিহাসকে অস্পষ্ট করা হচ্ছে।
আমরা বাঙালি, বাংলাদেশী। এই পরিচয় দিতে আমরা খুব গর্ববোধ করি। কিন্তু জানেন এই বাঙালি জাতিসত্তার উদ্ভাবক কে? জানেন না? এই বাঙালি জাতিসত্তার উদ্ভাবকও মুসলমান। মোঘল সম্রাট বাবর তার আত্মজীবনীতে বাংলার বিখ্যাত সুলতান নুসরাত শাহ ( যিনি ১৫১৮ থেকে ১৫৩২ খ্রিস্টাব্দ পর্যন্ত বাংলা শাসন করেন ) তাঁকে উল্লেখ করেছেন "সুলতান নুসরাত শাহ্ বাঙালি" নামে। এর আগে কোন ব্যক্তির নামের সাথে এভাবে বাঙালি বিশেষণটি সংযুক্ত হতে দেখা যায় নি। তাই আজকের বাংলাভাষী মানুষের জাতিসত্তার পৃথক পরিচয়কে ব্যাখ্যা করতে হলে স্বাধীন সুলতানি আমলের ইতিহাস চর্চা আবশ্যক হয়ে উঠে।
এই পর্যায়ে আমি বিশেষভাবে উল্লেখ করতে চাই মহান সুলতান আলাউদ্দীন হুসাইন শাহকে ; যাকে আধুনিক বাংলাদেশের স্বপ্নদ্রষ্টা বলা হয়। বাংলাদেশের নামকরণ যেমন তিনি করেছেন, বাংলাদেশের বর্তমান মানচিত্রটিও তারই ভাবনার প্রতিফলন। তিনি এদেশে মসজিদ নির্মাণ, মাদরাসা, পান্থশালা ও খানকার ব্যয় নির্বাহ চালু করেন। আনুষ্ঠানিক মুদ্রা ব্যবস্থা, ভূমি নীতি ও প্রজাহিতৈষী নানা প্রদ্ধতির প্রবক্তা তিনিই। বাংলাভাষাকেও তিনিই সর্বপ্রথম রাষ্ট্রীয়, সামাজিক ও ব্যবহারিক মর্যাদায় ভূষিত করেন।
বাংলাদেশে বাংলাভাষার দুর্দিনে আরাকান রাজসভায় বাংলাভাষী কবি-সাহিত্যিকদের মূল্যায়ন ও পৃষ্ঠপোষকতার ইতিহাস বিবৃত আছে। মুসলিম পণ্ডিত ও আলেমদের হাতেই পুঁথিসাহিত্য বিকশিত হয়। বাংলার লোকসাহিত্য এখনও মুসলিম ইতিহাস ঐতিহ্য ও হিরোদের এই কারণেই ধারণ করে আছে। তাই বলতেই হয় বাংলাভাষা বিকাশে স্বাধীন সুলতানি আমলেরই অবদান, এর আগের না। এই প্রসঙ্গে বিশেষভাবে আলোচনা করেছেন ড. দ্বীনেশ চন্দ্র সেন তার বিখ্যাত History of Bengali Language and Literature বইতে ; যা ১৯১১ সালে কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে প্রকাশিত হয়। সেখানে তিনি বলেন - স্বাধীন সুলতানি আমলেই বাংলাভাষা বিকাশ লাভ করে। সুলতানি আমলের আগে বাংলাভাষার কোন পুঁথি পাওয়া যায় নি। চর্যাপদকে ঠিক বাংলাভাষার নিদর্শন বলা যায় কিনা তা নিয়ে উঠেছে হাজারো প্রশ্ন। চর্যাপদের ভাষা এখন আর আমরা বুঝি না। কিন্তু স্বাধীন সুলতানি আমলের বাংলা পুঁথি পড়ে সহজেই বুঝতে পারি। এই পর্যন্ত সর্বপ্রাচীন যে বাংলা পুঁথি গেছে তা "ইউসুফ জোলায়খা"। এর রচিয়তা "শাহ মুহাম্মদ সগীর"। যিনি ১৪ - ১৫ শতকের কবি ছিলেন। এক সময় মনে করা হতো বাংলাভাষার সর্বপ্রাচীন পুঁথি হলো বড়ুচণ্ডী দাশের "শ্রীকৃষ্ণকীর্তন"। কিন্তু এখন আর তা মনে করা হচ্ছে না। শাহ মুহাম্মদ সগীরের "ইউসুফ জোলায়খাকেই" অগ্রাধিকার দিতে হয়। কথাগুলো ইতিহাসের। যার রচিয়তা ড. দ্বীনেশ চন্দ্র সেন। অবশ্য পরবর্তীকালে হিন্দুরাও বাংলাভাষায় অনেক অবদান রেখেছে তা আমি কখনও অস্বীকার করবো না। আমরা অকৃতজ্ঞ জাতি নই। তাই বলে আমাদের এই স্বাধীন বাংলাদেশে হিন্দুদেরকে মুসলমানদের উপর কোন অংশে প্রাধান্য দেবো না। কেননা ভাষা আন্দোলনের প্রতি লক্ষ্য করলেও মুসলমানদের রক্তই দেখি। রফিক, জব্বার, বরকত, সালাম এদের মত মুসলিম সন্তানেরাই বাংলার জন্য জীবন দিয়েছে। কোন হিন্দুর নাম তো শুনি না ভাষা শহীদের প্রথম তালিকায়। কেন তাহলে এতো অপপ্রচার?! কেন তাদের এতো লুকোচুরি?! তাছাড়া এই ভাষা আন্দোলন পরিচালন হয়েছে মূলত তামাদ্দুন মজলিসের পৃষ্ঠপোষতায়। যার পরিচালক ছিলে কবি ফররুখ আহমাদ। এছাড়া এই আন্দোলনে প্রধান ভূমিকা পালনকারী ছিলেন মাওলানা আবদুর রশিদ তর্কবাগীশ।
এবার বাংলাসন সম্পর্কে কিছু বলি। এটা সবারই জানা কথা - বাংলাসনের আবিষ্কারক মোঘল সম্রাট বাদশাহ আকবর। যিনি তার রাজ্যের বার্ষিক আয়করের সুবিধার্থে ৯৬৩ হিজরীতে বাংলা সন উদ্ভাবন করেন। আর ঐ হিজরী সনকে স্মরণীয় রাখার জন্য ৯৬৩ সন থেকেই বাংলাসনের গণনা শুরু করেন। বাংলাসনের গণণা ১ থেকে শুরু হয় নি ; হিজরীর ৯৬৩ সন থেকেই শুরু হয়েছে। ইতিহাস থেকে কি বুঝা গেলো?! বাংলাসনও মুসলমানদের হাত ধরেই শুরু হয়েছে। কেননা বাদশাহ আকবর মুসলিম সন্তান। বাদশাহ আকবর সন প্রবর্তনকালে পহেলা বৈশাখী হিন্দু সংস্কৃতি, মঙ্গল শোভাযাত্রা নামের নরকযাত্রা কোনটারই স্থান দেন নি। রবীন্দ্র দর্শন বা অন্য যার দর্শন বলেই এহুলো বাংলা সনের সাথে সংযুক্ত করেন - মূলত বাংলা সনের সাথে এগুলোর ধূলি পরিমাণ সম্পর্কও নেই। সব ষড়যন্ত্র। বাংলাদেশ, বাঙালি, বাংলাভাষা, বাংলাসন - এই সব আজ ষড়যন্ত্রে শিকার ইতিহাস বিকৃত করে হিন্দুত্ব প্রথা চাপিয়ে দেয়ার সুক্ষ্ম প্রয়াস। যেখানে হিন্দুদের অবদান যৎসামান্য, সেখানে দেখানো হচ্ছে বিশাল করে। আমার আলোচনা দ্বারা কিছুটা হলেও বুঝতে পারছেন - আমরা আজ কতটা গোলক ধাঁধাঁয় নিপাতিত হয়ে আছি।
আসুন সত্য জেনে মিথ্যা প্রতিহত করি। তাই বলে সাম্প্রদায়িক দাঙ্গায় জড়িয়ে না পড়ি। মুসলমান সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা সৃষ্টি করে না ; হিন্দুরাই করে। গুজরাট-সহ পুরো ভারত তার প্রমাণ। বাংলাদেশ এমন না। হাতেগোণা যে ক'টা ঘটনা ঘটছে, তার রহস্য আমরা সবাই জানি। আমাদের দেশে হিন্দুরা নিরাপদ। কারণ দেশের সংখ্যাগরিষ্ঠ মুসলমান। মুসলমান দেশ ও জাতির কল্যাণে নিবেদিত প্রাণ। মুসলমানদের অবদান সর্বত্র। সভ্য পৃথিবীর আধুনিকায়নের মূলে রয়েছে মুসলমানদের অমূল্য অবদান। আমাদের বাংলাদেশ, বাংলাভাষা ও বাংলাসন মুসলমানদের অবদানেই এতদূর এসেছে। তাই হে বন্ধু, বিকৃত ইতিহাস নয়, সঠিক ইতিহাস জেনে নিজেদের মূল্যায়ন নিজেরাই করি।..



No comments:
Post a Comment
Note: Only a member of this blog may post a comment.